তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাসিন্দারা। কয়েক দিন ধরে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প উৎপাদন ও চিকিৎসাসেবা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের কাটিয়া, পলাশপোল, ইটাগাছা ও সুলতানপুরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ঝাউডাঙ্গা, বল্লী, ফিংড়ী, বাঁশদহা ও কুশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে গরমে শিশু ও বয়স্করা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হলেও সাতক্ষীরায় কেন চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে নির্ধারিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। লেদ কারখানা, চালকল ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরাও সেচ পাম্প চালাতে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের মাধ্যমে জরুরি সেবা চালু রাখা হলেও দীর্ঘস্থায়ী সংকট চিকিৎসাসেবাকে চাপে ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলে সুষম বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আজকের বাণী 






















