আজ সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শ্যামনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে জখম Logo জীবিকার সংকটে সুন্দরবনের হাজারো বনজীবী Logo হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫৮৮ Logo জ্বালানি তেলের দাম বাধ্য হয়ে বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী Logo সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে ৬ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি Logo পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ইরান: নিউইয়র্ক টাইমস Logo এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-১৮ হকি: চায়নিজ তাইপেকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম জয় Logo শ্যামনগরে বিজিবি সদস্যের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট Logo হজ পালন করতে গিয়ে ৪১ বাংলাদেশির মৃত্যু Logo ঈদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ইরান: নিউইয়র্ক টাইমস

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৭:২৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ইরান ভবিষ্যতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করলে দেশটি ৩০০ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ পেতে পারে। এ বিষয়ে একটি পৃথক চুক্তির কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি, সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প খাত এবং বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ ওই তহবিলে জমা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এর অর্থায়নে অংশ নেবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এই বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পর ২০২৫ সালের জুনে ইরানে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ১২ দিনব্যাপী সেই সংঘাতের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও অভিযান শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং একটি চূড়ান্ত শান্তি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরির বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে ক্ষতিপূরণ তহবিল ও অর্থায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংঘাত শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়েও উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের নিশ্চয়তা দেয়, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়, তাহলেই ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হতে পারে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে জখম

পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে রাজি হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ইরান: নিউইয়র্ক টাইমস

আপডেট সময়: ০৭:২৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

ইরান ভবিষ্যতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করলে দেশটি ৩০০ বিলিয়ন ডলার (৩০ হাজার কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ পেতে পারে। এ বিষয়ে একটি পৃথক চুক্তির কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি, সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প খাত এবং বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ ওই তহবিলে জমা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এর অর্থায়নে অংশ নেবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এই বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পর ২০২৫ সালের জুনে ইরানে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ১২ দিনব্যাপী সেই সংঘাতের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও অভিযান শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং একটি চূড়ান্ত শান্তি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরির বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে ক্ষতিপূরণ তহবিল ও অর্থায়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংঘাত শুরুর পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়েও উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের নিশ্চয়তা দেয়, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়, তাহলেই ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হতে পারে।