ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার পর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত নিজেদের কনস্যুলেট বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইসরায়েল। বিশ্বজুড়ে দেশটির অন্যতম পুরোনো ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনগুলোর একটি এটি। বুধবার (৫ মে) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এক কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্রটি জানায়, কনস্যুলেট বন্ধ করা হলেও আঙ্কারায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস চালু থাকবে। তবে সেখানে কোনো কূটনৈতিক কর্মকর্তা না থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর থেকেই ওই মিশনের বেশিরভাগ কূটনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করা হয় এবং কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে আঙ্কারার দূতাবাস এবং ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট—উভয় মিশনই মূলত তুর্কি কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। পাশাপাশি ভূমিকম্প ঝুঁকির কারণে ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট ভবন ভেঙে ফেলার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি ওই সূত্রের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে থাকা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়েও অভ্যন্তরীণভাবে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, অকার্যকর ভবনটি ধরে রাখা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক।
এছাড়া গত ৭ এপ্রিল কনস্যুলেট ভবনের কাছে গুলির ঘটনার পর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যদিও ওই ঘটনার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি, তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এটিকে “ধর্মকে ব্যবহারকারী একটি সংগঠনের” কাজ বলে উল্লেখ করেছে। অক্টোবরের হামলার পর থেকে তুরস্কে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক উপস্থিতি কার্যত সীমিত হয়ে গেছে। বর্তমানে একজন অন্তর্বর্তীকালীন দূতের মাধ্যমে তুরস্কে ইসরায়েলের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।
আজকের বাণী 



























