ব্রাজিল একমাত্র দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের ২৩টি আসরেই খেলতে যাচ্ছে। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নও তারা। কিন্তু ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের চেয়েও জার্মানির বেশি। বিশ্বকাপে সর্বাধিক জয়, গোল ও ম্যাচ খেলার রেকর্ড সেলেসাওদের দখলে থাকলেও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ সবচেয়ে বেশি খেলেছে জার্মানরা। জার্মানির চেয়ে বেশিবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেনি আর কোনো জাতীয় দল। জার্মানরা ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে খেলেছে আটবার। ধারাবাহিকতা ও নিরলস প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর ভিত্তি করে কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি তারা অর্জন করেছে।জার্মানি শিরোপা জিতেছে ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে। আর ফাইনালে উঠেও হার দেখেছে ১৯৬৬, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ২০০২ সালে। শেষবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত দুটি আসরে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
সবচেয়ে বেশিবার ফাইনাল খেলার তালিকায় জার্মানির ঠিক গা ঘেষে আছে ব্রাজিল। সাতবার ফাইনাল খেলেছে তারা। ২০০২ সালে শেষবার ফাইনাল খেলে রেকর্ড পঞ্চম ট্রফি জিতেছিল তারা। এরপর সেরা সাফল্য ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, যে আসর তারা শেষ করেছিল চতুর্থ হয়ে। ব্রাজিল ১৯৫০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে হার দেখেছিল। এরপর টানা ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালেও শিরোপা হাতে নেওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে পরাজিত হয় সেলেসাওরা।
ছয়টি করে ফাইনাল খেলেছে ইতালি ও আর্জেন্টিনা। আজ্জুরিরা ১৯৩৪, ১৯৩৮ সালে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালে ফাইনালে উঠে শিরোপা হাতছাড়া হয়। এর মাঝে ও পরে ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে নেয় তারা। আর্জেন্টিনা ২০২২ সালের শেষ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তার আগে ২০১৪ সালে পঞ্চমবার ফাইনালে উঠে জার্মানির কাছে হেরে যায়। তার আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। ১৯৩০ ও ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচে পৌঁছালেও হারের যন্ত্রণা পেতে হয়েছিল।
সম্প্রতি ফ্রান্সের উত্থান চোখে পড়ার মতো। টানা গত দুটি আসরসহ চারবার ফাইনাল খেলেছে তারা। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। শেষবার ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হার দেখে। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা ঘরে তোলে ফরাসিরা। লা ব্লুরা ২০০৬ সালের নাটকীয় ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে রানার্সআপ হয়।
নেদারল্যান্ডসের জন্য ফাইনাল কেবলই বেদনার স্মৃতি। তিনবার ফাইনাল খেলে প্রত্যেকবার হেরেছে দ্য অরেঞ্জরা। ১৯৭৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ও ২০১০ সালে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে হারে তারা। ফাইনালে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড উরুগুয়ের। লা সেলেস্তেরা দুটি ফাইনাল খেলে দুটোতেই জিতেছিল। ১৯৩০ সালে আর্জেন্টিনাকে ও ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
হাঙ্গেরি ও চেকোস্লোভাকিয়াও দুটি করে ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু জিততে পারেনি একটিও। হাঙ্গেরি ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ সালে এবং চেকোস্লোভাকিয়া ১৯৩৪ ও ১৯৬২ সালে রানার্সআপ হয়। স্পেন ২০১০ সালে প্রথম ও একমাত্র ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। একই সাফল্য ইংল্যান্ডের, ১৯৬৬ সালে জার্মানির বিপক্ষে। তবে একবার করে ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও ক্রোয়েশিয়া ও সুইডেন ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।
আজকের বাণী 




























