আজ বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ৪২টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৯:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি’তে কমপক্ষে ৪২টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে আছে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, রি-ফুয়েলিং ট্যাংকার উড়োজাহজ এবং নজরদারি উড়োজাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের অধীন সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য। ধ্বংস হওয়া এসব উড়োজাহাজের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে সিআরএসের প্রতিবেদনে। সেটি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সর্বাধুনিক ও অগ্রসর বিমানও রয়েছে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দেড় দশক দশক ধরে টানাপোড়েন চলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে নিজের সামারিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম। যুদ্ধ চলে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৪০ দিন। তার পরের দিন ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

প্রতিবেদনে ধ্বংস হওয়া ৪২টি উড়োজাহাজের যে তালিকা দিয়েছে সিআরএস, এ তালিকায় রয়েছে ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ স্টেলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ অ্যাটাক এয়ারক্র্যাফট, ৭টি কেসি-১৩৫ স্টার্টোট্যাংকার রি-ফুয়েলিং উড়োজাহাজ, একটি ই-৩ সেন্ট্রি এওাকস সার্ভেইলেন্স এয়ারক্রাফট, ২টি এমসি-১৩০ জে কমান্ডো ২ এয়ারক্রাফট স্পেশাল অপারেশন এয়ারক্রাফট, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিঅ্যাপেয়ার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হাই-অল্টিচ্যুড সার্ভেইলেন্স ড্রোন।

ধ্বংস হওয়া এসব উড়োজাহাজ এবং বিমানের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দু’টি-ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে উচ্ছেদ করা এবং ইরানের কাছে যে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে- তা দখল করা।

যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সপরিবারে নিহত হন এবং পরবর্তী ৪০ দিনে মৃত্যুবরণ করেন ইরানের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন সামরিক-সরকারি কর্মকর্তা ও নেতা। তবে যে লক্ষ্য নিয়ে এ অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা সফল হয়নি। ইরানের সরকার উচ্ছেদ হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের মজুতের হদিস উদ্ধার করতে পারেনি। সিআরএসের সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ন। কারণ, ইরানে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন এমপিরা বেশ কয়েকবার যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনকে তাগাদা দিয়েছেন; কিন্তু পেন্টাগন এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ৪২টি বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময়: ০৯:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি’তে কমপক্ষে ৪২টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে আছে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, রি-ফুয়েলিং ট্যাংকার উড়োজাহজ এবং নজরদারি উড়োজাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের অধীন সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য। ধ্বংস হওয়া এসব উড়োজাহাজের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে সিআরএসের প্রতিবেদনে। সেটি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সর্বাধুনিক ও অগ্রসর বিমানও রয়েছে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দেড় দশক দশক ধরে টানাপোড়েন চলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে নিজের সামারিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম। যুদ্ধ চলে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৪০ দিন। তার পরের দিন ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

প্রতিবেদনে ধ্বংস হওয়া ৪২টি উড়োজাহাজের যে তালিকা দিয়েছে সিআরএস, এ তালিকায় রয়েছে ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং ২ স্টেলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ অ্যাটাক এয়ারক্র্যাফট, ৭টি কেসি-১৩৫ স্টার্টোট্যাংকার রি-ফুয়েলিং উড়োজাহাজ, একটি ই-৩ সেন্ট্রি এওাকস সার্ভেইলেন্স এয়ারক্রাফট, ২টি এমসি-১৩০ জে কমান্ডো ২ এয়ারক্রাফট স্পেশাল অপারেশন এয়ারক্রাফট, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিঅ্যাপেয়ার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হাই-অল্টিচ্যুড সার্ভেইলেন্স ড্রোন।

ধ্বংস হওয়া এসব উড়োজাহাজ এবং বিমানের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দু’টি-ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে উচ্ছেদ করা এবং ইরানের কাছে যে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে- তা দখল করা।

যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সপরিবারে নিহত হন এবং পরবর্তী ৪০ দিনে মৃত্যুবরণ করেন ইরানের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন সামরিক-সরকারি কর্মকর্তা ও নেতা। তবে যে লক্ষ্য নিয়ে এ অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা সফল হয়নি। ইরানের সরকার উচ্ছেদ হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের মজুতের হদিস উদ্ধার করতে পারেনি। সিআরএসের সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ন। কারণ, ইরানে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন এমপিরা বেশ কয়েকবার যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনকে তাগাদা দিয়েছেন; কিন্তু পেন্টাগন এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।