পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান বর্ষা মৌসুমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে নিজস্ব অর্থায়নে এ উদ্যোগ নিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম ও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।
বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মোট ২৮২টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৬টি দেশীয় ফলজ গাছ এবং ২১৬টি বহুবর্ষজীবী ফুলগাছ। সরকারি কোনো বরাদ্দ ছাড়াই সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম ও সদর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের নিজস্ব অর্থায়নে গাছের চারা সংগ্রহ ও রোপণ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যে জেলা শহরে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. জয়ন্ত সরকার, মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমত জাহান সুমনা, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান মিঠুসহ সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সদর হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সদর হাসপাতালকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসে পরিণত করার লক্ষ্যেই নিজেদের অর্থায়নে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। দেশীয় ফলজ ও ফুলের গাছগুলো ভবিষ্যতে হাসপাতালের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। হাসপাতালে আগত রোগী, স্বজন ও কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।’
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় হয়ে এসব গাছ একদিকে যেমন ছায়া ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করবে, তেমনি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর জন্য খাদ্যের উৎস হিসেবেও কাজ করবে। চিকিৎসকদের সম্মিলিত এই উদ্যোগ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
আজকের বাণী 






















