আজ রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১৯ লাখ টাকার চোরাচালান মালামাল জব্দ Logo কফিনে ফিরলেন দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধা, কান্নায় ভারী সাতক্ষীরার আকাশ Logo বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত তামিম, সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট Logo জরাজীর্ণ ডাকবাংলার স্থলে নতুন ভবন, আধুনিক হবে তালা বাজার: জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব Logo বাংলাদেশ-চীনের গণমাধ্যম সহযোগিতা জোরদারে এফইআরবি ও আপন মিডিয়া ক্লাবের সমঝোতা Logo রামিসা হত্যা: ‘থাই পাহাড়ের মতো ভারী’ এই স্মৃতি, বললেন আইনমন্ত্রী Logo তালায় সীমানা পিলার ও মোটরসাইকেলসহ ৪জন আটক Logo চট্টগ্রাম বিভাগকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে সাতক্ষীরার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় Logo খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের ‘সাইক্লিং ফর গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ ক্যাম্পেইন Logo ২০ বছরেও সংস্কার হয়নি মাছখোলা পশ্চিমের সড়ক, চরম দুর্ভোগ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

রামিসা হত্যা: ‘থাই পাহাড়ের মতো ভারী’ এই স্মৃতি, বললেন আইনমন্ত্রী

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেওয়া রায়কে সরকারের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, রামিসার হত্যাকাণ্ড ‘আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে’। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদে তিনশ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, মামলার দুই প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।

মাও সেতুংয়ের একটি উদ্ধৃতি টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী, কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা।’ তিনি বলেন, ‘রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের কাছে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। আর যদি এই ফাঁসির আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়, তাহলে তাদের মৃত্যু জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর সাংবাদিকেরা যখন রামিসার বাবার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘আজ রামিসার বাবা বলেছেন, তিনি এই বিচারে সন্তুষ্ট। আমরা তাঁর আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।’

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দুই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে, আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তিনি নিজে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় রামিসার বাবা বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। সরকার তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, বিচারপ্রক্রিয়া যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য গ্রীষ্মকালীন আদালত অবকাশের মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে কার্যক্রমের আওতায় রাখা হয়। প্রধান বিচারপতির সহযোগিতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিপক্ষ কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করায় আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্টেট ডিফেন্স লয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে আইনমন্ত্রী জানান, ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ, ৪ জুন যুক্তিতর্ক এবং ৭ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনেই আদালত রায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে রায় প্রত্যাশা করেছিল এবং আদালতের কাছে যে শাস্তির আবেদন জানিয়েছিল, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সেই অনুযায়ী দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে প্রায় ১৯ লাখ টাকার চোরাচালান মালামাল জব্দ

রামিসা হত্যা: ‘থাই পাহাড়ের মতো ভারী’ এই স্মৃতি, বললেন আইনমন্ত্রী

আপডেট সময়: ১০:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেওয়া রায়কে সরকারের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, রামিসার হত্যাকাণ্ড ‘আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে’। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদে তিনশ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, মামলার দুই প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।

মাও সেতুংয়ের একটি উদ্ধৃতি টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী, কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা।’ তিনি বলেন, ‘রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের কাছে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। আর যদি এই ফাঁসির আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়, তাহলে তাদের মৃত্যু জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর সাংবাদিকেরা যখন রামিসার বাবার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘আজ রামিসার বাবা বলেছেন, তিনি এই বিচারে সন্তুষ্ট। আমরা তাঁর আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।’

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১৯ মে পল্লবীতে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনার আট ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দুই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে, আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তিনি নিজে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় রামিসার বাবা বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। সরকার তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

আইনমন্ত্রী জানান, বিচারপ্রক্রিয়া যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য গ্রীষ্মকালীন আদালত অবকাশের মধ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে কার্যক্রমের আওতায় রাখা হয়। প্রধান বিচারপতির সহযোগিতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিপক্ষ কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করায় আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্টেট ডিফেন্স লয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে আইনমন্ত্রী জানান, ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ, ৪ জুন যুক্তিতর্ক এবং ৭ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনেই আদালত রায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে রায় প্রত্যাশা করেছিল এবং আদালতের কাছে যে শাস্তির আবেদন জানিয়েছিল, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সেই অনুযায়ী দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তদারকি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।