বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আয়োজিত পেশাজীবী দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৩০০ দায়িত্বশীল পেশাজীবী অংশ নেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা শহরের কাজী শামছুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ ইজ্জত উল্লাহ। ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত মান’ শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কর্মীদের আদর্শিক দৃঢ়তা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি সময়ের অন্যতম দাবি।
সকাল ৭টায় নিবন্ধন ও নাস্তার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তী অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান ‘আনুগত্য, পরামর্শ ও মুহাসাবা’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি সংগঠনের শৃঙ্খলা, পারস্পরিক পরামর্শ এবং আত্মসমালোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার সূরা আল-ফুরকানের ৬৩ থেকে ৭৬ নম্বর আয়াতের আলোকে দারসুল কোরআন উপস্থাপন করেন। তিনি একজন মুমিনের চরিত্র, বিনয়, ধৈর্য ও তাকওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
চা-বিরতির পর অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল ‘দ্বীন প্রতিষ্ঠায় পেশাজীবীদের ভূমিকা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়, সততা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় পেশাজীবীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ অধিবেশনে সাতক্ষীরা-2 আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ‘আখেরাতই মুমিন জীবনের প্রকৃত মানজিল’ শীর্ষক বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একজন মুমিনের প্রতিটি কর্ম, চিন্তা ও জীবনাচরণ আখেরাতের সফলতাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হওয়া উচিত।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মোস্তফা আসাদুজ্জামান (মুকুল)। সঞ্চালনা করেন পেশাজীবী বিভাগের জেলা সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষামূলক আয়োজন পেশাজীবীদের নৈতিক, আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি অর্জিত শিক্ষা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সমাজে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা জানান, জেলার পেশাজীবীদের আদর্শিক, সাংগঠনিক ও নৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
আজকের বাণী 



























