সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর মোজাম মিস্ত্রি (৬২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মোজাম মিস্ত্রি উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের মৃত তাহের মিস্ত্রির ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে গোপালপুর এলাকায় হামলার শিকার হন মোজাম। প্রথমে তাঁকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠান।
নিহতের ছেলে তোফাজ্জল মিস্ত্রির অভিযোগ, ইসরাফিল হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাবু, তাঁর সহযোগী হাসান ও সাগরসহ ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী তাঁর বাবার ওপর হামলা করেন। হামলাকারীরা তাঁকে মৃত ভেবে পাশের খালে ফেলে রেখে চলে যান। পরে রাত ১০টার দিকে পথচারীরা তাঁর গোঙানির শব্দ শুনে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তোফাজ্জল মিস্ত্রি আরও দাবি করেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর থানা-পুলিশ উপজেলা সৈনিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফিল হোসেনকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মোজাম মিস্ত্রি ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ তুলে ইসরাফিলের ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ওই হুমকির এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বাবার ওপর হামলা হয় বলে দাবি করেন তোফাজ্জল। তাঁর ভাষ্য, হামলার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে মোজাম জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছিলেন। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, খুলনায় মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যুর খবর তিনি সন্ধ্যায় শুনেছেন। তবে নিহতের পরিবারের কেউ এখনো পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটক করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরে মামলা করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আজকের বাণী 




























