বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মাস্টার শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। শহীদ পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পাটকল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবি’ শীর্ষক এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পাটকল বিভাগের সভাপতি খান গোলাম রসুল।
মাস্টার শফিকুল আলম বলেন, “চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ দীর্ঘদিনের অপশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এ আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং অনেক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।”
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে শ্রমিকরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, সকল বন্ধ পাটকল দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, ২০০৬ সালের শ্রম আইন কার্যকর, ন্যূনতম মজুরি ২৮ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকদের আত্মত্যাগও স্মরণীয়। কিন্তু এখনো শ্রমিকদের সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। জুলাই সনদের প্রতিটি দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে যারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন এবং পঙ্গুত্ব বরণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ গাউসুল আজম হাদী, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য আল ফিদা হোসেন ও উপদেষ্টা মুশাররফ আনসারীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুট সেক্টরের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আজকের বাণী 



























