সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা কাশিবাটি গ্রামে স্বর্ণের কানের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা গণধোলাই দিলে তার মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় কাশিবাটি গ্রামের একটি বাড়ির ওয়ারড্রব থেকে নিখোঁজ শিশু ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান ইমামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
অভিযুক্ত সুমা বেগম ওই বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঝালমুড়ি বিক্রেতা আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিফিনের সময় ফারজানা স্কুলের সামনে সুমার দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। এ সময় শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুলের দিকে সুমার নজর পড়ে। পরে কৌশলে ফারজানাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ওয়ারড্রবের ভেতরে আটকে রাখা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্কুল ছুটির পর ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্কুলে তার ব্যাগ ও বই পাওয়া গেলেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনরা সুমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তেজিত জনতা সুমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ জনতা সুমাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত শিশু ফারজানা ও অভিযুক্ত সুমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আজকের বাণী 



























