আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

স্বর্ণের দুলের লোভে শিশুকে হত্যা, সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারীর মৃত্যু

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১১:২৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা কাশিবাটি গ্রামে স্বর্ণের কানের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা গণধোলাই দিলে তার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় কাশিবাটি গ্রামের একটি বাড়ির ওয়ারড্রব থেকে নিখোঁজ শিশু ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান ইমামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত সুমা বেগম ওই বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঝালমুড়ি বিক্রেতা আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিফিনের সময় ফারজানা স্কুলের সামনে সুমার দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। এ সময় শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুলের দিকে সুমার নজর পড়ে। পরে কৌশলে ফারজানাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ওয়ারড্রবের ভেতরে আটকে রাখা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্কুল ছুটির পর ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্কুলে তার ব্যাগ ও বই পাওয়া গেলেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনরা সুমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তেজিত জনতা সুমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ জনতা সুমাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত শিশু ফারজানা ও অভিযুক্ত সুমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

স্বর্ণের দুলের লোভে শিশুকে হত্যা, সাতক্ষীরায় গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নারীর মৃত্যু

আপডেট সময়: ১১:২৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা কাশিবাটি গ্রামে স্বর্ণের কানের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা গণধোলাই দিলে তার মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় কাশিবাটি গ্রামের একটি বাড়ির ওয়ারড্রব থেকে নিখোঁজ শিশু ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান ইমামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত সুমা বেগম ওই বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঝালমুড়ি বিক্রেতা আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিফিনের সময় ফারজানা স্কুলের সামনে সুমার দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। এ সময় শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুলের দিকে সুমার নজর পড়ে। পরে কৌশলে ফারজানাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ওয়ারড্রবের ভেতরে আটকে রাখা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্কুল ছুটির পর ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্কুলে তার ব্যাগ ও বই পাওয়া গেলেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্বজনরা সুমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উত্তেজিত জনতা সুমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর বিক্ষুব্ধ জনতা সুমাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত শিশু ফারজানা ও অভিযুক্ত সুমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।