আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাতি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। এ সময় তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ইসতিয়াক আহমেদ অপু ও মো. শাহেদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সাত বছর বয়সী একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। শিশুটিকে কেবিন থেকে বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছি।

এদিকে, সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফদের বাধার মুখে পড়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একপর্যায়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা সাংবাদিকদের সহযোগিতা না করে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস

আপডেট সময়: ১০:০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাতি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। এ সময় তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ইসতিয়াক আহমেদ অপু ও মো. শাহেদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সাত বছর বয়সী একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। শিশুটিকে কেবিন থেকে বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছি।

এদিকে, সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফদের বাধার মুখে পড়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একপর্যায়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা সাংবাদিকদের সহযোগিতা না করে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।