আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

দাওয়াত না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বিয়ে বাড়িতে ভাঙচুর

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৩:১৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪
  • ৩২৬ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের জাজিরায় দাওয়াত না পেয়ে বিয়ে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য নাসির বেপারী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারীকান্দি গ্রামের বুধাইরহাট বাজার সংলগ্ন সৈয়দ তাজুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোটভাই বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান খা (২২) নামে একজনকে আটক করেছে জাজিরা থানা পুলিশ।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সৈয়দ তাজুল ইসলাম তার চাচাতো বোনের বিয়ে উপলক্ষে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির বেপারীসহ তার লোকজনদের দাওয়াত দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালে নাসির বেপারী ও তার লোকজন ককটেল বোমাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বসতঘরে বোমা মারা হয়। এ ছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত রান্না করা খাবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয় ও বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পিন্টু সরদারের টয়োটা কোম্পানির এলিয়ন এ ফিফটিন মডেলের একটি প্রাইভেটকার পিটিয়ে ও কুপিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী সৈয়দ তাজুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমি নিরীহ মানুষ। আমার চাচা অসচ্ছল ও অসুস্থ হওয়ায় চাচাতো বোনের বিয়ে দায়িত্ব নিয়ে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। সেখানে কাছের স্বজনদের ছাড়া কাউকে দাওয়াত দেইনি। কিন্তু মেম্বার নাসির বেপারী ও তার লোকজন বলেছে তাদের ইচ্ছামতো দাওয়াত না করলে ভালো হবে না। আর সে কারণেই আমার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বোমাবাজি করে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো এমন তাণ্ডব চালানো হলো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার বাদী সৈয়দ সাব্বির হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। নাসির মেম্বারের মনমতো দাওয়াত না দেওয়ার কারণেই তারা এই বর্বর হামলা চালিয়েছে। তারা রাতে হঠাৎ বাড়িতে ঢুকেই ককটেল বোমা ফাটানো শুরু করে। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আনা গরুর মাংসের ডেক নিয়ে যাওয়াসহ যাবতীয় খাবার সরঞ্জাম নষ্ট করে। হামলার সময় আমার পায়ে বোমার আঘাত লাগে। পরে আমি ঘরে লুকিয়ে থাকি। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে দেখি আমাদের বাড়ি ও ফার্নিচারের দোকানের সব ভাঙচুর ও লুটপাট করে শেষ করে ফেলেছে।

বিয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসা অনিক সরদার বলেন, আমরা গায়ে হলুদের সময় নিজেরা আনন্দ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ বেশ কয়েকজন লোক বাড়ির সামনে এসে ককটেল ফাটায়। পরে বাড়িতে ঢুকে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো সব আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। কোনোকিছু বুঝতে না পেরে তাদের কাছে এর কারণ জানতে গেলে তারা আমাকে ইটপাটকেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। প্রায় আধাঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর তারা চলে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আরেক স্বজন জেরিন আক্তার বলেন, হামলার সময় একের পর এক বোমার শব্দে আমার শিশু সন্তান আঁতকে ওঠে। এরপর থেকে জ্বরে ভুগছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নাসির বেপারীর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ঘটনার সময়ে আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে জেনেছি তাজুল ইসলাম তার চাচাতো বোনের বিয়েতে এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে দাওয়াত দেয়নি। এ নিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টাও করেছি। কিন্তু তাজুল ইসলাম উল্টো তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কুদ্দুস বেপারী মোবাইল ফোনে বলেন, মূলত আমি আমার এলাকার একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি হওয়ায় এলাকার বাইরে আছি। তবে সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।

জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার লোকজন বিয়ে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা করে একটি প্রাইভেট কার ও বাড়ির সামনে থাকা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে ভাঙচুর করে বিপুল অংকের ক্ষয়ক্ষতি করে এবং ওই বাড়িতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মামলা করি এবং একজন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হই। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

দাওয়াত না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বিয়ে বাড়িতে ভাঙচুর

আপডেট সময়: ০৩:১৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

শরীয়তপুরের জাজিরায় দাওয়াত না পেয়ে বিয়ে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য নাসির বেপারী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারীকান্দি গ্রামের বুধাইরহাট বাজার সংলগ্ন সৈয়দ তাজুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোটভাই বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান খা (২২) নামে একজনকে আটক করেছে জাজিরা থানা পুলিশ।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সৈয়দ তাজুল ইসলাম তার চাচাতো বোনের বিয়ে উপলক্ষে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির বেপারীসহ তার লোকজনদের দাওয়াত দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ে বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালে নাসির বেপারী ও তার লোকজন ককটেল বোমাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বসতঘরে বোমা মারা হয়। এ ছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত রান্না করা খাবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয় ও বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পিন্টু সরদারের টয়োটা কোম্পানির এলিয়ন এ ফিফটিন মডেলের একটি প্রাইভেটকার পিটিয়ে ও কুপিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী সৈয়দ তাজুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমি নিরীহ মানুষ। আমার চাচা অসচ্ছল ও অসুস্থ হওয়ায় চাচাতো বোনের বিয়ে দায়িত্ব নিয়ে একটি ছোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। সেখানে কাছের স্বজনদের ছাড়া কাউকে দাওয়াত দেইনি। কিন্তু মেম্বার নাসির বেপারী ও তার লোকজন বলেছে তাদের ইচ্ছামতো দাওয়াত না করলে ভালো হবে না। আর সে কারণেই আমার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বোমাবাজি করে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো এমন তাণ্ডব চালানো হলো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

মামলার বাদী সৈয়দ সাব্বির হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। নাসির মেম্বারের মনমতো দাওয়াত না দেওয়ার কারণেই তারা এই বর্বর হামলা চালিয়েছে। তারা রাতে হঠাৎ বাড়িতে ঢুকেই ককটেল বোমা ফাটানো শুরু করে। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আনা গরুর মাংসের ডেক নিয়ে যাওয়াসহ যাবতীয় খাবার সরঞ্জাম নষ্ট করে। হামলার সময় আমার পায়ে বোমার আঘাত লাগে। পরে আমি ঘরে লুকিয়ে থাকি। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে দেখি আমাদের বাড়ি ও ফার্নিচারের দোকানের সব ভাঙচুর ও লুটপাট করে শেষ করে ফেলেছে।

বিয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসা অনিক সরদার বলেন, আমরা গায়ে হলুদের সময় নিজেরা আনন্দ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ বেশ কয়েকজন লোক বাড়ির সামনে এসে ককটেল ফাটায়। পরে বাড়িতে ঢুকে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো সব আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। কোনোকিছু বুঝতে না পেরে তাদের কাছে এর কারণ জানতে গেলে তারা আমাকে ইটপাটকেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। প্রায় আধাঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর তারা চলে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আরেক স্বজন জেরিন আক্তার বলেন, হামলার সময় একের পর এক বোমার শব্দে আমার শিশু সন্তান আঁতকে ওঠে। এরপর থেকে জ্বরে ভুগছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নাসির বেপারীর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ঘটনার সময়ে আমি বাড়িতে ছিলাম না। তবে জেনেছি তাজুল ইসলাম তার চাচাতো বোনের বিয়েতে এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে দাওয়াত দেয়নি। এ নিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টাও করেছি। কিন্তু তাজুল ইসলাম উল্টো তাদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কুদ্দুস বেপারী মোবাইল ফোনে বলেন, মূলত আমি আমার এলাকার একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি হওয়ায় এলাকার বাইরে আছি। তবে সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।

জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার লোকজন বিয়ে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হামলা করে একটি প্রাইভেট কার ও বাড়ির সামনে থাকা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে ভাঙচুর করে বিপুল অংকের ক্ষয়ক্ষতি করে এবং ওই বাড়িতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মামলা করি এবং একজন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হই। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান।