আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি ট্রাম্পের, পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা Logo সাতক্ষীরায় কিশোরী ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ আটক ৩ Logo কলারোয়ায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত Logo শ্যামনগরে বিসিডিএস’র বার্ষিক সম্মেলন ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত Logo তালায় ২৭ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু Logo সাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন Logo সাতক্ষীরায় ইজিবাইকের ধাক্কায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নিহত Logo শ্যামনগরে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারী পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার Logo ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ১৯৪০ টাকা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

মাহে রমজানের সওগাত

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৫:৩৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪
  • ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র মাহে রমাজানের আজ পঞ্চম দিবস। মহান আল্লাহর রহমত বর্ষণের প্রথম দশক অতিক্রম করছি আমরা। এই দশ দিনে সমগ্র মানব মণ্ডলীসহ বিশ্ব চরাচর আল্লাহর রহমতে সিক্ত হয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুরা আল-ইমরানের ১০২ আয়াতে বলেছেন, তোমরা আল্লাহকে তাকওয়ার যথার্থ দাবি পূরণ করে ভয় কর। পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে এই তাকওয়া অনুশীলনের এক বাস্তব কর্মসূচি। তাকওয়া বা পরহেজগারী অর্জনের সুযোগ ও চেষ্টা যুগে যুগে বিদ্যামান ছিলো। তাই অন্যান্য আসমানী কিতাবের অনুসারীদের উপরও সিয়াম সাধনা ফরজ ছিলো। পবিত্র কুরআনেই মহান আল্লাহ একথা আমাদের জানিয়েছেন। সুরা বাকারার ১৮৩ আয়াতে বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও রোজা ফরজ করা হয়েছিল। অন্যান্য উম্মতের উপর রোজার ধরণ-ধারণ কেমন ছিল তা অবশ্য জানা নেই। হাদিস শরীফে এসেছে, হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম সিয়াম পালন করতেন। তিনি একদিন পর এক দিন রোজা রাখতেন। ইহুদীরা ১০ই মুহররম রোজা থাকে। এই দিনে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম পানিতে নিমজ্জিত হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন এবং আলাøহ ফিরাউনকে নীল দরিয়ার পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন, ধ্বংস করেছেন। অতীতে বহু-জাতি রোজা পালন করেছে। পারশ্য, রোমান, গ্রীক, ব্যাবিলনীয়, হিন্দু ও পুরাতন মিসরীয়রা রোজা রাখতো। ক্যাথলিক গীর্জা রোজার কোন নির্দেশ ও নীতিমালা জারি করেনি। তবে উপবাসের মাধ্যমে কিছু গুনাহ মাফ হয় এবং তা এক প্রকারের তওবা হিসেবে গণ্য হয়। রোমান গীর্জা মাঝে মধ্যে দিনের এক বেলা খাবার গ্রহণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আংশিক রোজার উপদেশ দিয়ে থাকে। প্রাচীনকালে খ্রিস্টানরা বুধবার, শুক্রবার ও শনিবার রোজা পালন করতো। তারা তাদের উপর আপতিত বিপদ মুক্তির জন্য রোজা রাখতো। মুসা নবীর অনুকরণে তারা ৪০দিন রোজা পালন করতো। প্রাচীন হিব্রু জাতি শোক কিংবা বিপদগ্রস্ত হলে রোজা রাখতো। বিপদ কেটে গেলে আবার আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখতো। হিব্রু ক্যালেন্ডারে আজও ক্ষমা দিবসে ইহুদীদের রোজা রাখার নিয়ম আছে। প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা বছরে কয়েক দিন একাধারে রোজা রাখতো। তাদের মতে রোজা বা উপবাসব্রত আÍাকে বিশুদ্ধ করার উত্তম পদ্ধতি। দার্শনিক পিথাগোরাসের মতে রোজা চিন্তার সহায়ক। তিনি বছরে ৪০ দিন রোজা রাখতেন। সক্রেটিস ও আফলাতুনও ১০ দিন রোজা রাখতেন। প্রাচীন সিরীয়রা প্রতি ৭ম দিবসে রোজা রাখত। আর মঙ্গোলিয়ানরা রোজা রাখতো প্রতি ১০ম দিবসে। অনুরূপভাবে বৌদ্ধ, হিন্দু,তারকাপূজারী ও আধ্যাÍ বাদিদেরও উপবাস সাধনের নিয়ম রয়েছে। তারা বিশেষ কিছু খাবার পরিহার করে আÍাকে উন্নত করার চেষ্টা করে। তাদের ধারণা দেহকে দুর্বল করার মাধ্যমে আÍা শক্তিশালী হয়। আÍাকে সবল করার জন্য তাদের এই উপবাস প্রথার আবিষ্কার হয়েছে। মূল কথা হলো সর্বযুগেই সকল জাতি ও ধর্মে রোজা পালনের বিধান ছিলো। তবে মুসলিম সমাজের সিয়াম পালন অন্য ধর্মের উপবাস ব্রত পালনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি ট্রাম্পের, পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা

মাহে রমজানের সওগাত

আপডেট সময়: ০৫:৩৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

পবিত্র মাহে রমাজানের আজ পঞ্চম দিবস। মহান আল্লাহর রহমত বর্ষণের প্রথম দশক অতিক্রম করছি আমরা। এই দশ দিনে সমগ্র মানব মণ্ডলীসহ বিশ্ব চরাচর আল্লাহর রহমতে সিক্ত হয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুরা আল-ইমরানের ১০২ আয়াতে বলেছেন, তোমরা আল্লাহকে তাকওয়ার যথার্থ দাবি পূরণ করে ভয় কর। পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে এই তাকওয়া অনুশীলনের এক বাস্তব কর্মসূচি। তাকওয়া বা পরহেজগারী অর্জনের সুযোগ ও চেষ্টা যুগে যুগে বিদ্যামান ছিলো। তাই অন্যান্য আসমানী কিতাবের অনুসারীদের উপরও সিয়াম সাধনা ফরজ ছিলো। পবিত্র কুরআনেই মহান আল্লাহ একথা আমাদের জানিয়েছেন। সুরা বাকারার ১৮৩ আয়াতে বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও রোজা ফরজ করা হয়েছিল। অন্যান্য উম্মতের উপর রোজার ধরণ-ধারণ কেমন ছিল তা অবশ্য জানা নেই। হাদিস শরীফে এসেছে, হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম সিয়াম পালন করতেন। তিনি একদিন পর এক দিন রোজা রাখতেন। ইহুদীরা ১০ই মুহররম রোজা থাকে। এই দিনে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম পানিতে নিমজ্জিত হওয়া থেকে বেঁচে গেছেন এবং আলাøহ ফিরাউনকে নীল দরিয়ার পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন, ধ্বংস করেছেন। অতীতে বহু-জাতি রোজা পালন করেছে। পারশ্য, রোমান, গ্রীক, ব্যাবিলনীয়, হিন্দু ও পুরাতন মিসরীয়রা রোজা রাখতো। ক্যাথলিক গীর্জা রোজার কোন নির্দেশ ও নীতিমালা জারি করেনি। তবে উপবাসের মাধ্যমে কিছু গুনাহ মাফ হয় এবং তা এক প্রকারের তওবা হিসেবে গণ্য হয়। রোমান গীর্জা মাঝে মধ্যে দিনের এক বেলা খাবার গ্রহণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আংশিক রোজার উপদেশ দিয়ে থাকে। প্রাচীনকালে খ্রিস্টানরা বুধবার, শুক্রবার ও শনিবার রোজা পালন করতো। তারা তাদের উপর আপতিত বিপদ মুক্তির জন্য রোজা রাখতো। মুসা নবীর অনুকরণে তারা ৪০দিন রোজা পালন করতো। প্রাচীন হিব্রু জাতি শোক কিংবা বিপদগ্রস্ত হলে রোজা রাখতো। বিপদ কেটে গেলে আবার আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখতো। হিব্রু ক্যালেন্ডারে আজও ক্ষমা দিবসে ইহুদীদের রোজা রাখার নিয়ম আছে। প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা বছরে কয়েক দিন একাধারে রোজা রাখতো। তাদের মতে রোজা বা উপবাসব্রত আÍাকে বিশুদ্ধ করার উত্তম পদ্ধতি। দার্শনিক পিথাগোরাসের মতে রোজা চিন্তার সহায়ক। তিনি বছরে ৪০ দিন রোজা রাখতেন। সক্রেটিস ও আফলাতুনও ১০ দিন রোজা রাখতেন। প্রাচীন সিরীয়রা প্রতি ৭ম দিবসে রোজা রাখত। আর মঙ্গোলিয়ানরা রোজা রাখতো প্রতি ১০ম দিবসে। অনুরূপভাবে বৌদ্ধ, হিন্দু,তারকাপূজারী ও আধ্যাÍ বাদিদেরও উপবাস সাধনের নিয়ম রয়েছে। তারা বিশেষ কিছু খাবার পরিহার করে আÍাকে উন্নত করার চেষ্টা করে। তাদের ধারণা দেহকে দুর্বল করার মাধ্যমে আÍা শক্তিশালী হয়। আÍাকে সবল করার জন্য তাদের এই উপবাস প্রথার আবিষ্কার হয়েছে। মূল কথা হলো সর্বযুগেই সকল জাতি ও ধর্মে রোজা পালনের বিধান ছিলো। তবে মুসলিম সমাজের সিয়াম পালন অন্য ধর্মের উপবাস ব্রত পালনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।