বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবন থেকে চলতি বছরের মধু আহরণ মৌসুম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে সক্রিয় জলদস্যুদের নির্মূলে সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুই মাসব্যাপী মধু সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সুন্দরবনের মধুর সুনাম রক্ষা, ভেজালমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিতকরণ ও বনজীবী ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জলদস্যু দমনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডকে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই জলদস্যুদের তালিকা প্রস্তুত ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের মধু বিশ্ববাজারে একটি অনন্য পণ্য। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং শিক্ষিত তরুণরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মধু ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। এছাড়া বন্ধ মৌসুমে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং বনজীবীদের জন্য জেলে কোটায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৮৬০ সাল থেকে সুন্দরবনে ঐতিহ্যগতভাবে মধু সংগ্রহ হয়ে আসছে। অপরিপক্ব মধু সংগ্রহ না করা এবং ড্রামে লবণাক্ত পানি প্রবেশ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সম্প্রতি সুন্দরবনের মধু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পাওয়ায় গুণগত মান রক্ষায় আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, র্যাব সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হাসানুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিমন্ত্রী শ্যামনগর উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
রিপোর্টার 

















