সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের রোদঝলমলে এক সকালে নতুন ব্যাগ, খাতা-কলম আর পোশাক হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সাতক্ষীরার কয়েকজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী। ছোট ছোট মুখজুড়ে ফুটে ওঠে হাসি। কারও চোখে বিস্ময়, কারও চোখে আনন্দের ঝিলিক। উপহার পেয়ে যেন উৎসবে মেতে ওঠে তারা। সাতক্ষীরায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশন। সকালে সংগঠনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে বছরজুড়ে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। উপহারসামগ্রীর মধ্যে ছিল স্কুল ড্রেস, খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, কাটার, স্কুল ব্যাগ ও জুতা। প্রয়োজনীয় এসব সামগ্রী পেয়ে আনন্দে ভরে ওঠে শিশুদের মুখ। উপহার হাতে নিয়ে তারা মানবট্রেনের আদলে আনন্দঘন আয়োজনেও অংশ নেয়। এতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রশান্ত কুমার বল্লভ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, “শিশুদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া মানে শুধু উপহার দেওয়া নয়; তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। সমাজের সামর্থ্যবানদের এমন মানবিক উদ্যোগে আরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।” সিনিয়র সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
এ ধরনের উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ঋশিল্পী ফাউন্ডেশনের সাপোর্ট সার্ভিস ম্যানেজার নির্মল সরদার বলেন, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড এডুকেশন ম্যানেজার জোসেফ খাঁ খা বলেন, “একটি শিশুর হাতে বই-খাতা তুলে দিতে পারলে সেটিই সমাজ পরিবর্তনের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।” এডুকেশন সাপোর্ট প্রোগ্রামের ম্যানেজার সনোজ কুমার বসু বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো শিশু পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে—সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। ঋশিল্পী সেন্ট্রাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার ঢালী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উপহার পেয়ে শিক্ষার্থী প্রেমা মিত্র জানায়, নতুন শিক্ষা উপকরণ পেয়ে সে খুব খুশি। সমৃদ্ধ মণ্ডল জানায়, বড় হয়ে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। আর আনজারা রহমান অহনা বলে, উপহার পাওয়ার চেয়ে মানবট্রেনের আনন্দঘন আয়োজনটিই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আয়োজকদের ভাষ্য, শিশুদের মুখের এই হাসিই সমাজ বদলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিটি শিশুর হাতেই পৌঁছে যাবে শিক্ষার আলো।
আজকের বাণী 






















