আজ রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo আশাশুনিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo আশাশুনি সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ Logo জাল নোট ঠেকাতে সাতক্ষীরার পশুর হাটে র‌্যাবের আধুনিক বুথ চালু Logo বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা Logo উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা Logo শিশু রামিছা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি Logo খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগ শ্যামনগরে কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ Logo সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণের চেষ্টা, প্রশাসনের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্থাপনা Logo শ্যামনগরে রামিসার ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগ শ্যামনগরে কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১০:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধানখালী এলাকায় খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। রোববার সকালে ধানখালী এলাকার খননকৃত খালসংলগ্ন কৃষিজমিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে বক্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে খাল খনন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। মানববন্ধনে কৃষক নেতা জমির আলী বলেন, উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলে কৃষিকাজ করেই স্থানীয় মানুষ কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু খাল খননের নামে তাদের শেষ সম্বল আবাদি জমি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “১০ ফুটের খাল কাটতে গিয়ে প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দা ভূপতি ঘোষ বলেন, কাজ শুরুর আগে কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। এমনকি মূল ঠিকাদারও এলাকায় আসেননি। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকাবাসী বারবার প্রকল্পের নকশা ও ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে রাজি হননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। মজিদ সরদার বলেন, গরিব কৃষকদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রভাবশালীদের জমি অক্ষত রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

রবিউল পাড় বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের অনেক জমিই অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ধানখালীর অল্প কিছু উর্বর জমিই কৃষকদের ভরসা। সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকরা চরম সংকটে পড়বেন। সেলিনা পারভীন বলেন, খাল খননের ফলে যেসব কৃষকের জমির ক্ষতি হয়েছে, তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এনামুল গায়েন বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে খাল খননের কারণে শুধু ফসলি জমিই নয়, গ্রামীণ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দ্রুত কাজ বন্ধ করে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান। মাধব দত্ত বলেন, খাল খননের নামে কৃষিজমি ধ্বংসের এ অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল নকশা, স্টিমেট ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার দাবি জানান তিনি। মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিএডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা

খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগ শ্যামনগরে কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আপডেট সময়: ১০:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধানখালী এলাকায় খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। রোববার সকালে ধানখালী এলাকার খননকৃত খালসংলগ্ন কৃষিজমিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে বক্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে খাল খনন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। মানববন্ধনে কৃষক নেতা জমির আলী বলেন, উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলে কৃষিকাজ করেই স্থানীয় মানুষ কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু খাল খননের নামে তাদের শেষ সম্বল আবাদি জমি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “১০ ফুটের খাল কাটতে গিয়ে প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দা ভূপতি ঘোষ বলেন, কাজ শুরুর আগে কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। এমনকি মূল ঠিকাদারও এলাকায় আসেননি। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকাবাসী বারবার প্রকল্পের নকশা ও ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে রাজি হননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। মজিদ সরদার বলেন, গরিব কৃষকদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রভাবশালীদের জমি অক্ষত রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

রবিউল পাড় বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের অনেক জমিই অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ধানখালীর অল্প কিছু উর্বর জমিই কৃষকদের ভরসা। সেগুলোও নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকরা চরম সংকটে পড়বেন। সেলিনা পারভীন বলেন, খাল খননের ফলে যেসব কৃষকের জমির ক্ষতি হয়েছে, তাদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এনামুল গায়েন বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে খাল খননের কারণে শুধু ফসলি জমিই নয়, গ্রামীণ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দ্রুত কাজ বন্ধ করে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান। মাধব দত্ত বলেন, খাল খননের নামে কৃষিজমি ধ্বংসের এ অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল নকশা, স্টিমেট ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার দাবি জানান তিনি। মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিএডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”