শ্যামনগর: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতির ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব ও শ্যামনগর সাংবাদিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায় বক্তারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, পেশাজীবী সংগঠনের কার্যালয়ে প্রকাশ্যে ঢুকে সভাপতির ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তাদের অভিযোগ, যুবদল নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার আগে পুলিশকে অবহিত করা হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ আবু কওছার, সিনিয়র সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার আফজালুর রহমান, সাংবাদিক আবু সাঈদ, আনিসুর রহমান, আব্দুল কাদের, রনজিৎ বর্মন, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিনিধি হুসাইন বিন আফতাব, এসএম মিজানুর রহমান, মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, সীমান্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম ইমন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ রুবেলসহ আরও অনেকে। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। তারা অবিলম্বে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শ্যামনগর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, পূর্বে পুলিশকে অবহিত করার পরও ঘটনাস্থলে সময়মতো পৌঁছানো হয়নি, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারা প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান। উল্লেখ্য, সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধন করে। একপর্যায়ে যুবদল সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে ২৫–৩০ জন নেতাকর্মী প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল ইমাম আযম মনিরের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 



























