আজ সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

আনোয়ার হোসেনকে প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ভাষা আন্দোলনের শহীদ আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে আনোয়ার হোসেন স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের সভাপতিত্বে এবং বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এস কে হাসান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত, বাবুল হোসেন, ফারুক হোসেন ও আবু হাসান চঞ্চলসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ১৯৩০ সালে তাঁর নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কনুই গাজী ও মাতা পরীজান বিবি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। পরে বুধহাটা বি.বি.এম কলেজিয়েট বিদ্যালয় হয়ে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

বক্তারা আরও জানান, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠ করার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পর মুক্তি পেলেও ১৯৪৯ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার করে প্রথমে কোতয়ালী থানায় এবং পরে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে বন্দিদের ওপর গুলি চালনার ঘটনায় সাতজন কারাবন্দির সঙ্গে আনোয়ার হোসেনও শহীদ হন।

মানববন্ধনে বক্তারা মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মদানকারী আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়ক, আশাশুনি সরকারি কলেজ ও বুধহাটা কলেজিয়েট স্কুল তাঁর নামে নামকরণ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সরকারিভাবে একটি ট্রাস্ট গঠনের আহ্বান জানান তারা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

আনোয়ার হোসেনকে প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

আপডেট সময়: ০৭:০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ভাষা আন্দোলনের শহীদ আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে আনোয়ার হোসেন স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের সভাপতিত্বে এবং বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এস কে হাসান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত, বাবুল হোসেন, ফারুক হোসেন ও আবু হাসান চঞ্চলসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ১৯৩০ সালে তাঁর নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কনুই গাজী ও মাতা পরীজান বিবি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। পরে বুধহাটা বি.বি.এম কলেজিয়েট বিদ্যালয় হয়ে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

বক্তারা আরও জানান, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠ করার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পর মুক্তি পেলেও ১৯৪৯ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার করে প্রথমে কোতয়ালী থানায় এবং পরে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে বন্দিদের ওপর গুলি চালনার ঘটনায় সাতজন কারাবন্দির সঙ্গে আনোয়ার হোসেনও শহীদ হন।

মানববন্ধনে বক্তারা মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মদানকারী আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়ক, আশাশুনি সরকারি কলেজ ও বুধহাটা কলেজিয়েট স্কুল তাঁর নামে নামকরণ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সরকারিভাবে একটি ট্রাস্ট গঠনের আহ্বান জানান তারা।