আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শ্যামনগরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী হেফাজতে Logo কালীগঞ্জে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে অভিযান, মিটার ও মোটর জব্দ Logo সাতক্ষীরায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এডভোকেসি সভা Logo কঠোর নজরদারিতে সাতক্ষীরায় মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু Logo চলমান যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে। Logo ঋতুপর্ণাদের র‌্যাংকিং অপরিবর্তিত, কাল সাফ ড্র Logo খুলনায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু Logo ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি ট্রাম্পের, পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা Logo সাতক্ষীরায় কিশোরী ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ আটক ৩
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক রোগী পেলেন সেবা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৪:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে মেরুদণ্ড, হাড়-জয়েন্টের ব্যথা ও গাইনি সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য এই বিশেষায়িত সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের সন্তান হিসেবে এই উদ্যোগের মূল কারিগর ছিলেন ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখেছেন এবং দেখেছেন কীভাবে অর্থের অভাবে অনেকেই উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তার সেই শৈশবের স্বপ্ন ছিল, একদিন তিনি বড় চিকিৎসক হয়ে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য কিছু করবেন, যাতে অর্থের অভাবে কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় বা পঙ্গুত্ববরণ না করে।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করেই আমরা এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছি। আমাদের দেশে এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। বিশেষ করে এই সাতক্ষীরা জেলা রাজধানী থেকে দূরে হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে অনেকেই বঞ্চিত হন। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এই আয়োজন, যাতে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।”
এই মেডিকেল ক্যাম্পে ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ নিজেই রোগীদের সেবা দিয়েছেন, রোগ নির্ণয় করেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ড ও হাড়-জয়েন্টের সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য তার এই সেবা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
এছাড়া, নারী রোগীদের জন্য গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানছুরা ইয়াসমিন সম্পা বিনামূল্যে পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। গর্ভকালীন জটিলতা, প্রসূতি সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য গাইনি সমস্যায় আক্রান্ত অনেক রোগী এই ক্যাম্প থেকে উপকৃত হয়েছেন।
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এক রোগী, আসিফুর রহমান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কোমর ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভুগছিলেন, তিনি বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এত সহজে ভালো মানের চিকিৎসা পাব। ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশের পরামর্শ ও চিকিৎসা পেয়ে আমি সত্যিই উপকৃত হয়েছি।”
ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ বলেন, “রমজান মাস আমাদের কাছে সংযমের মাস, দানশীলতার মাস। আর স্বাধীনতা দিবস আমাদের শিখিয়েছে মুক্তি ও মানবতার কথা। আমি মনে করি, আজকের দিনে শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে পারা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সাদকায়ে জারিয়া। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর আমরা সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সবসময় গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকব।”
সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে তারা এ ধরনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়াবে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য।
ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী হেফাজতে

ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক রোগী পেলেন সেবা

আপডেট সময়: ০৪:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে মেরুদণ্ড, হাড়-জয়েন্টের ব্যথা ও গাইনি সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য এই বিশেষায়িত সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের সন্তান হিসেবে এই উদ্যোগের মূল কারিগর ছিলেন ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখেছেন এবং দেখেছেন কীভাবে অর্থের অভাবে অনেকেই উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। তার সেই শৈশবের স্বপ্ন ছিল, একদিন তিনি বড় চিকিৎসক হয়ে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য কিছু করবেন, যাতে অর্থের অভাবে কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় বা পঙ্গুত্ববরণ না করে।
তিনি বলেন, “স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করেই আমরা এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছি। আমাদের দেশে এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। বিশেষ করে এই সাতক্ষীরা জেলা রাজধানী থেকে দূরে হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে অনেকেই বঞ্চিত হন। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এই আয়োজন, যাতে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।”
এই মেডিকেল ক্যাম্পে ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ নিজেই রোগীদের সেবা দিয়েছেন, রোগ নির্ণয় করেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ড ও হাড়-জয়েন্টের সমস্যায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য তার এই সেবা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
এছাড়া, নারী রোগীদের জন্য গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানছুরা ইয়াসমিন সম্পা বিনামূল্যে পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। গর্ভকালীন জটিলতা, প্রসূতি সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য গাইনি সমস্যায় আক্রান্ত অনেক রোগী এই ক্যাম্প থেকে উপকৃত হয়েছেন।
ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এক রোগী, আসিফুর রহমান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কোমর ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভুগছিলেন, তিনি বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এত সহজে ভালো মানের চিকিৎসা পাব। ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশের পরামর্শ ও চিকিৎসা পেয়ে আমি সত্যিই উপকৃত হয়েছি।”
ডা. মাহমুদুল হাসান পলাশ বলেন, “রমজান মাস আমাদের কাছে সংযমের মাস, দানশীলতার মাস। আর স্বাধীনতা দিবস আমাদের শিখিয়েছে মুক্তি ও মানবতার কথা। আমি মনে করি, আজকের দিনে শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে পারা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সাদকায়ে জারিয়া। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর আমরা সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সবসময় গরিব-অসহায় মানুষের পাশে থাকব।”
সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে তারা এ ধরনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়াবে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য।