দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের প্রধান লাইনে হুক লাগিয়ে অবৈধ সংযোগ নিয়ে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এ সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার ও মোটর জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দেঁয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় কার্যালয়ের ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি দল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে অবৈধভাবে সংযুক্ত বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং একটি মিটার ও একটি মোটর জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুর রহমান বৈধভাবে একটি সেচ মিটারের সংযোগ নিলেও অতিরিক্ত আরও কয়েকটি মোটর ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের জমিতে পানি সরবরাহ করে আসছিলেন। এতে করে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।
তবে অভিযান পরিচালনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে এ ধরনের কার্যক্রমকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার-মোটর জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, জরিমানা বা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের পরিবার দাবি করেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার মেয়ে আফরোজা খাতুন বলেন, “ভাটা মালিক মতিউর রহমান পরিকল্পিতভাবে আমাদের হয়রানি করছেন।” তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মতিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং তারা যে জমিতে বসবাস করছে, সেটি আমার নামে রেকর্ডভুক্ত।” ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টার 
























