আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo শ্যামনগরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী হেফাজতে Logo কালীগঞ্জে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে অভিযান, মিটার ও মোটর জব্দ Logo সাতক্ষীরায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এডভোকেসি সভা Logo কঠোর নজরদারিতে সাতক্ষীরায় মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু Logo চলমান যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে। Logo ঋতুপর্ণাদের র‌্যাংকিং অপরিবর্তিত, কাল সাফ ড্র Logo খুলনায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু Logo ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি ট্রাম্পের, পরিস্থিতি ঘিরে ধোঁয়াশা Logo সাতক্ষীরায় কিশোরী ধর্ষণের দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন Logo সাতক্ষীরা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ আটক ৩
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

অধিকাংশ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে তুষকাঠ ও টায়ারের কালি পরিবেশ হুমকিতে

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরায় সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কয়লার সাথে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, তুষকাঠ ও টায়ার পোড়ানো কালি। ইটভাটায় কয়লার সাথে কাঠ, তুষকাঠ ও টায়ার পোড়ানো কালি ব্যবহার করে ইট পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছেন স্থানীয়রা। এছাড়া অবাধে কাঠ পোড়ানোর কারণে একদিকে যেমন বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়াপত্র ও সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চলছে এসব ইটভাটা,এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সাতক্ষীরায় সে নির্দেশনা মানছে না কেউ। মাঝে মধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিতে সাতক্ষীরাতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাতক্ষীরা জেলায় ১২৫টি ইটভাটার মধ্যে ৩০টি ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চালু ৯৫টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩০টির। বাকি ৬৫টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। পরিবেশের ছাড়পত্র বিহীন এসব অবৈধ ইটভাটার কোন সরকারি লাইসেন্সও নেই। শুধুমাত্র উচ্চ আদালতে একটি রিটের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর ইটভাটা মালিকরা অবৈধভাবে চালাচ্ছে এসব ইটভাটা। উচ্চ আদালতে রিট করার কারণে পরিবশে অধিদপ্তর অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারছে না।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় অবৈধ এসব ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ, তুষকাঠ এবং টায়ার পোড়ানো বিষাক্ত কালি। টায়ার পোড়ানো কালির ধোয়া ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি ব্যাধির সহায়ক বলে জানান চিকিৎসকরা। ফলে বায়ু দূষণের কবলে পড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে অবৈধ এসব ইটভাটার আশেপাশে বসবাসকারি জনসাধারণ। সরেজমিনে সাতক্ষীরার কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অধিকাংশ ইটভাটাগুলোতে কয়লার সাথে তুষকাঠ মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাথে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ ও টায়ার পোড়ানো কালি।

শহরের অদূরে বিনেরপোতা এলাকার একটি ইটভাটায় পোড়ানোর কাজে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকের নির্দেশে দিনে অল্প কয়লা ও সারারাত শুধু জ্বালানি কাঠ, প্লাস্টিক, সোয়াবিনের গাঁথ, তুষকাঠ ও টায়ার পোড়ানো বিষাক্ত কালি ব্যবহার করে করে তারা ইট পোড়াচ্ছেন। ইটভাটায় কাঠ ব্যবহার করলে প্রতিটি ইটে খরচ কিছুটা কম হয়। এজন্য অধিক লাভের আশায় ইটভাটা মালিকরা কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করে। ইটভাটায় জ্বালানির কাজে কয়লার বদলে কাঠের ব্যবহার প্রসঙ্গে একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, প্রথমে ইটভাটায় নতুন আগুন জ্বালানোর সময় ভিতরে অল্প কিছু কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় সাথে প্লাস্টিক, তুষকাঠ ও টায়ারের কালি ব্যবহার করা হয়।

পরিবেশবীদ মোজাম্মেল হক বলেন, উচ্চ আদালত এক আদেশে দেশের সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা পুরোদমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এসব অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ ও তুষকাঠ এবং টায়ার পোড়ানো কালি। টায়ার পোড়ানো কালির ধোয়া ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি ব্যাধির সহায়ক বলে মন্তব্য করেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডাক্তার মীর মাহফুজ আলমসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ফলে বায়ু দূষণের কবলে পড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে অবৈধ এসব ইটভাটার আশেপাশে বসবাসকারি এলাকা বাসি।

এপ্রসঙ্গে ক্যান্সার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যদি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়, তাহলে এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এতে বৃদ্ধ এবং শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। এছাড়া টায়ার পোড়ানো কালির ধোঁয়া খুবই বিষাক্ত। এই ধোঁয়া ক্যান্সারের সহায়ক। ফলে এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

এবিষয় সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, জেলায় বর্তমানে ৯৫টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩০টির। বাকি ৬৫টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এসব ইটভাটা মালিকরা উচ্চ আদালতে রিট করে তাদের ইটভাটা পরিচালনা করছেন। যে কারণে উচ্চ আদালতের রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, জেলার ব্রিক ফিল্ডগুলো কাঠ ও তুষকাঠ পোড়ানো শুরু করেছে জানতে পেরে আমরা অভিযান পরিচালনা করে আইনী ব‍্যবস্থা নিচ্ছি। ইটভাটায় কাঠ ও তুষকাঠ পোড়ানো বন্ধে অনেক ইট ভাটায় অভিযান চালাচ্ছি এবং কয়েকটি ভাটা নষ্ট করে দেয়া হয়।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী হেফাজতে

অধিকাংশ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে তুষকাঠ ও টায়ারের কালি পরিবেশ হুমকিতে

আপডেট সময়: ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

সাতক্ষীরায় সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কয়লার সাথে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, তুষকাঠ ও টায়ার পোড়ানো কালি। ইটভাটায় কয়লার সাথে কাঠ, তুষকাঠ ও টায়ার পোড়ানো কালি ব্যবহার করে ইট পোড়ানোর ফলে বায়ু দূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছেন স্থানীয়রা। এছাড়া অবাধে কাঠ পোড়ানোর কারণে একদিকে যেমন বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়াপত্র ও সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চলছে এসব ইটভাটা,এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সাতক্ষীরায় সে নির্দেশনা মানছে না কেউ। মাঝে মধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিতে সাতক্ষীরাতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাতক্ষীরা জেলায় ১২৫টি ইটভাটার মধ্যে ৩০টি ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চালু ৯৫টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩০টির। বাকি ৬৫টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। পরিবেশের ছাড়পত্র বিহীন এসব অবৈধ ইটভাটার কোন সরকারি লাইসেন্সও নেই। শুধুমাত্র উচ্চ আদালতে একটি রিটের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর ইটভাটা মালিকরা অবৈধভাবে চালাচ্ছে এসব ইটভাটা। উচ্চ আদালতে রিট করার কারণে পরিবশে অধিদপ্তর অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারছে না।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় অবৈধ এসব ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ, তুষকাঠ এবং টায়ার পোড়ানো বিষাক্ত কালি। টায়ার পোড়ানো কালির ধোয়া ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি ব্যাধির সহায়ক বলে জানান চিকিৎসকরা। ফলে বায়ু দূষণের কবলে পড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে অবৈধ এসব ইটভাটার আশেপাশে বসবাসকারি জনসাধারণ। সরেজমিনে সাতক্ষীরার কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অধিকাংশ ইটভাটাগুলোতে কয়লার সাথে তুষকাঠ মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাথে ব্যবহার হচ্ছে কাঠ ও টায়ার পোড়ানো কালি।

শহরের অদূরে বিনেরপোতা এলাকার একটি ইটভাটায় পোড়ানোর কাজে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকের নির্দেশে দিনে অল্প কয়লা ও সারারাত শুধু জ্বালানি কাঠ, প্লাস্টিক, সোয়াবিনের গাঁথ, তুষকাঠ ও টায়ার পোড়ানো বিষাক্ত কালি ব্যবহার করে করে তারা ইট পোড়াচ্ছেন। ইটভাটায় কাঠ ব্যবহার করলে প্রতিটি ইটে খরচ কিছুটা কম হয়। এজন্য অধিক লাভের আশায় ইটভাটা মালিকরা কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করে। ইটভাটায় জ্বালানির কাজে কয়লার বদলে কাঠের ব্যবহার প্রসঙ্গে একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, প্রথমে ইটভাটায় নতুন আগুন জ্বালানোর সময় ভিতরে অল্প কিছু কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কয়লার দাম বেশি হওয়ায় সাথে প্লাস্টিক, তুষকাঠ ও টায়ারের কালি ব্যবহার করা হয়।

পরিবেশবীদ মোজাম্মেল হক বলেন, উচ্চ আদালত এক আদেশে দেশের সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা পুরোদমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এসব অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ ও তুষকাঠ এবং টায়ার পোড়ানো কালি। টায়ার পোড়ানো কালির ধোয়া ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি ব্যাধির সহায়ক বলে মন্তব্য করেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ডাক্তার মীর মাহফুজ আলমসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ফলে বায়ু দূষণের কবলে পড়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে অবৈধ এসব ইটভাটার আশেপাশে বসবাসকারি এলাকা বাসি।

এপ্রসঙ্গে ক্যান্সার সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যদি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়, তাহলে এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এতে বৃদ্ধ এবং শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। এছাড়া টায়ার পোড়ানো কালির ধোঁয়া খুবই বিষাক্ত। এই ধোঁয়া ক্যান্সারের সহায়ক। ফলে এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

এবিষয় সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, জেলায় বর্তমানে ৯৫টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩০টির। বাকি ৬৫টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এসব ইটভাটা মালিকরা উচ্চ আদালতে রিট করে তাদের ইটভাটা পরিচালনা করছেন। যে কারণে উচ্চ আদালতের রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, জেলার ব্রিক ফিল্ডগুলো কাঠ ও তুষকাঠ পোড়ানো শুরু করেছে জানতে পেরে আমরা অভিযান পরিচালনা করে আইনী ব‍্যবস্থা নিচ্ছি। ইটভাটায় কাঠ ও তুষকাঠ পোড়ানো বন্ধে অনেক ইট ভাটায় অভিযান চালাচ্ছি এবং কয়েকটি ভাটা নষ্ট করে দেয়া হয়।