আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

আশাশুনিতে মরিচ্চাপের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৮:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫
  • ২১৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪০০ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁধের ফাটল ক্রমশই বড় হচ্ছে, ফলে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় কাঁচা বাজারের নির্মাণাধীন সেড ও মসজিদ। যেকোনো মুহূর্তে এই স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ফলে উপজেলার বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বিএম আলাউদ্দীন জানান, গত বছর মরিচ্চাপ নদী খননের পর বছর না ঘুরতেই এই ভাঙন শুরু হয়। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের হাজারো বিঘা বোরো ধান, শত শত বিঘা তরমুজ ক্ষেত, মাছের ঘেরসহ ব্যাপক ফসলি জমি প্লাবিত হবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আজিজুর রহমান বলেন, “বেড়িবাঁধের অনেকাংশ ইতোমধ্যে ধসে গেছে। কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট বাঁধ অবশিষ্ট আছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) জাহিরুল ইসলাম বলেন, “গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশে নদী ভাঙন একটি বড় সমস্যা, যা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করছে এবং কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রায় ১০০টি নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী ভাঙনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক স্রোতের গতি, তীরের মাটি দুর্বল হওয়া, অপরিকল্পিত নদী শাসন ও বালু উত্তোলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নিয়মিত নদী ড্রেজিং ও বাঁধ সংরক্ষণ জরুরি। তবে অনেক সময় যথাযথ পরিকল্পনা ও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

বাঁধ ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান না হলে প্রতি বছর এ ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।
এলাকার জনগণ দ্রুত বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

আশাশুনিতে মরিচ্চাপের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট সময়: ০৮:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ মার্চ ২০২৫

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪০০ ফুট এলাকাজুড়ে বাঁধের ফাটল ক্রমশই বড় হচ্ছে, ফলে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় কাঁচা বাজারের নির্মাণাধীন সেড ও মসজিদ। যেকোনো মুহূর্তে এই স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ফলে উপজেলার বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বিএম আলাউদ্দীন জানান, গত বছর মরিচ্চাপ নদী খননের পর বছর না ঘুরতেই এই ভাঙন শুরু হয়। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের হাজারো বিঘা বোরো ধান, শত শত বিঘা তরমুজ ক্ষেত, মাছের ঘেরসহ ব্যাপক ফসলি জমি প্লাবিত হবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আজিজুর রহমান বলেন, “বেড়িবাঁধের অনেকাংশ ইতোমধ্যে ধসে গেছে। কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট বাঁধ অবশিষ্ট আছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) জাহিরুল ইসলাম বলেন, “গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশে নদী ভাঙন একটি বড় সমস্যা, যা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করছে এবং কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রায় ১০০টি নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী ভাঙনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক স্রোতের গতি, তীরের মাটি দুর্বল হওয়া, অপরিকল্পিত নদী শাসন ও বালু উত্তোলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নিয়মিত নদী ড্রেজিং ও বাঁধ সংরক্ষণ জরুরি। তবে অনেক সময় যথাযথ পরিকল্পনা ও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

বাঁধ ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান না হলে প্রতি বছর এ ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।
এলাকার জনগণ দ্রুত বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।