আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরা প্রাণসায়ের খালে দখল উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশ

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০১:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ২১৭ বার পড়া হয়েছে

সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সাতক্ষীরা শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী “প্রাণসায়ের খাল” দখল ও দূষণ থেকে পুনরুদ্ধার ও রক্ষার ব্যর্থতা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হওয়ায় কেন তা অসাংবিধানিক, বেআইনী ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারি করেছেন। জারিকৃত এ রুলে উল্লেখিত খালটির মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের, সকল দখলদার ও ক্ষতিকর স্থাপনা উচ্ছেদের এবং দূষণের উৎস চিহ্নিতপূর্বক দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উল্লেখিত খাল পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও রক্ষা করার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না- তাও জানতে চেয়েছেন মহামান্য আদালত। রুল জারির পাশাপাশি মহামান্য আদালত উল্লেখিত খালটির মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের, খালে বিদ্যমান দখলদার উচ্ছেদের এবং খালটি দূষণের উৎস চিহ্নিতপূর্বক দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ প্রদান করেছেন। সেইসাথে আদালতের আদেশ প্রতিপালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মহামান্য আদালত অন্তবর্তীকালীন এ নির্দেশসমূহ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মহাপরিচালক, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণ) এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপ-পরিচালককে প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থমূলক (নং ৪৪৬/২০২৫) মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে বিচারপতি মো: আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং বিচারপতি রাশেদুজ্জামান রাজা এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা শহর এলাকার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রাণশায়ের খাল। সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর সংযোগকারী এ খালের দৈর্ঘ্য ১৩ কিলোমিটার। শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে- এ খাল। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর সংযোগ খাল হিসেবে, এ খালের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। একসময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এ খালের অবদান ছিল অপরিসীম। দেশের অন্যান্য নদী-খালের মতো দখল ও দূষণে এ খালের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খালটি দখল করে গড়ে উঠেছে দোকান, ঘর-বাড়ীসহ নানা অবৈধ স্থাপনা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা ২০১৯ সালে ৮২০ জন অবৈধ দখলদার এবং ১৬৮টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করলেও অদ্যাবধি দখলমুক্ত হয়নি প্রাণসায়ের খাল। দখলের পাশাপাশি খালটির দু‘পাশে এবং খালের মধ্যে পলিথিন-প্লাষ্টিকসহ নানান অপচনশীল ও ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলে খালটির পানি দূষিত করছে। সাতক্ষীরা বাজারের অননুমোদিত কসাইখানার মাধ্যমে গবাদি পশুর রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি খালটিতে ফেলা হচ্ছে।
এছাড়াও বাজার ও পাশর্^বর্তী আবাসিক এলাকার ড্রেনের সংযোগ রয়েছে এ খালে। গৃহস্থালী বর্জ্য নিয়মিত এ খালে ফেলা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে খালটি তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট হারিয়ে একটি পঁচা ডোবায় পরিণত হয়েছে। খালটি রক্ষায় বেলা উল্লেখিত জনস্বার্থমূলক মামলাটি দায়ের করে।

মামলার বিবাদীগণ হলেন- ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার; খুলনা বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক; সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক; সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণ) এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক।
বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট এস. হাসানুল বান্না। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব ড: মো: গোলাম রহমান ভুঁইয়া। ২৫/২/২৫

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

সাতক্ষীরা প্রাণসায়ের খালে দখল উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট সময়: ০১:৫৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সাতক্ষীরা শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী “প্রাণসায়ের খাল” দখল ও দূষণ থেকে পুনরুদ্ধার ও রক্ষার ব্যর্থতা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হওয়ায় কেন তা অসাংবিধানিক, বেআইনী ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারি করেছেন। জারিকৃত এ রুলে উল্লেখিত খালটির মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের, সকল দখলদার ও ক্ষতিকর স্থাপনা উচ্ছেদের এবং দূষণের উৎস চিহ্নিতপূর্বক দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উল্লেখিত খাল পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও রক্ষা করার নির্দেশ কেন প্রদান করা হবে না- তাও জানতে চেয়েছেন মহামান্য আদালত। রুল জারির পাশাপাশি মহামান্য আদালত উল্লেখিত খালটির মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণের, খালে বিদ্যমান দখলদার উচ্ছেদের এবং খালটি দূষণের উৎস চিহ্নিতপূর্বক দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ প্রদান করেছেন। সেইসাথে আদালতের আদেশ প্রতিপালন সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মহামান্য আদালত অন্তবর্তীকালীন এ নির্দেশসমূহ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মহাপরিচালক, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণ) এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপ-পরিচালককে প্রদান করেছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থমূলক (নং ৪৪৬/২০২৫) মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে বিচারপতি মো: আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং বিচারপতি রাশেদুজ্জামান রাজা এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা শহর এলাকার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রাণশায়ের খাল। সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর সংযোগকারী এ খালের দৈর্ঘ্য ১৩ কিলোমিটার। শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে- এ খাল। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর সংযোগ খাল হিসেবে, এ খালের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। একসময় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এ খালের অবদান ছিল অপরিসীম। দেশের অন্যান্য নদী-খালের মতো দখল ও দূষণে এ খালের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খালটি দখল করে গড়ে উঠেছে দোকান, ঘর-বাড়ীসহ নানা অবৈধ স্থাপনা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা ২০১৯ সালে ৮২০ জন অবৈধ দখলদার এবং ১৬৮টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করলেও অদ্যাবধি দখলমুক্ত হয়নি প্রাণসায়ের খাল। দখলের পাশাপাশি খালটির দু‘পাশে এবং খালের মধ্যে পলিথিন-প্লাষ্টিকসহ নানান অপচনশীল ও ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলে খালটির পানি দূষিত করছে। সাতক্ষীরা বাজারের অননুমোদিত কসাইখানার মাধ্যমে গবাদি পশুর রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি খালটিতে ফেলা হচ্ছে।
এছাড়াও বাজার ও পাশর্^বর্তী আবাসিক এলাকার ড্রেনের সংযোগ রয়েছে এ খালে। গৃহস্থালী বর্জ্য নিয়মিত এ খালে ফেলা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে খালটি তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট হারিয়ে একটি পঁচা ডোবায় পরিণত হয়েছে। খালটি রক্ষায় বেলা উল্লেখিত জনস্বার্থমূলক মামলাটি দায়ের করে।

মামলার বিবাদীগণ হলেন- ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব; জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার; খুলনা বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক; সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক; সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণ) এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক।
বেলা’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট এস. হাসানুল বান্না। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব ড: মো: গোলাম রহমান ভুঁইয়া। ২৫/২/২৫