আজ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

খুনের সরঞ্জাম কিনে দিয়ে কলকাতা ছাড়েন শাহীন

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
  • ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার মূল্য পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন আনারকে হত্যায় কলকাতায় যাবতীয় কার্যক্রম আগে থেকেই সম্পন্ন করে রাখেন। আগে থেকেই তিনি সরঞ্জাম কিনে দেন। এরপর সেগুলো তিনি তার বেয়াই শিমুল ভূঁইয়াকে বুঝিয়ে দেন। শিমুল তার ভাড়াটে খুনি দিয়ে ‘কিলিং মিশন’ সম্পন্ন করেন। এরপর ‘কাট-আউট’ পদ্ধতি ব্যবহার করে লাশের টুকরো গায়েব করা হয়। আজিমকে হত্যার পর লাশের টুকরো করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটি খালে ফেলা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন। এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যায় শাহীনের সঙ্গে আরও কোনো রাঘববোয়াল আছে কি না তারও খোঁজ করছে তদন্তকারী দল। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত শাহীনের বাইরে প্রভাবশালী অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আমরা পাইনি।

এদিকে এমপি আজিম হত্যায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনকে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন– শিমুল ভূঁইয়া ওরফে সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান, ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ও সেলিস্তি রহমান। এর আগে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি প্রতিনিধি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সাতজনের মধ্যে চারজনকে এখনো সবাইকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িতরা হলো– মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন, ভাড়াটে খুনি সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজ। শাহীন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে জানা যায়। ভোলার বাসিন্দা সিয়াম গত ১৭ মে ভারত থেকে নেপালে গেছেন। আর ফয়সাল-মোস্তাফিজের ব্যাপারে কিছু জানা যাচ্ছে না। তারা দুজই খুলনার বাসিন্দা এবং শাহীনের পরিচিত। হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের নতুন পাসপোর্ট করে কলকাতায় নেওয়া হয়। মিশন শেষে তারা দেশে ফেরেন।

কলকাতার নিউটাউনে যে ফ্ল্যাটে এমপি আজিমকে হত্যা করা হয়, সেখানকার দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। একটি ফুটেজে ১৩ মে দুপুরে এমপি আজিমকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় তার পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট। হাতে ছিল কাগজপত্রসহ ফাইল। একই সময় অন্য দুজন ফ্ল্যাটে ঢোকেন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের একজন হলেন শিমুল ভূঁইয়া ও অন্যজন ভাড়াটে কিলার ফয়সাল। অন্য একটি ফুটেজে ওইদিন বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে দুজনকে ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দেখা যায়। তাদের একজনের হাতে ছিল একটি সবুজ রঙের বড় ট্রলিব্যাগ। আরেকজনের হাতে কয়েকটি পলিথিন ব্যাগ। তারা লিফটে নামেন। গোয়েন্দারা বলছেন, ওই ব্যাগে ছিল এমপির লাশের অংশ। ব্যাগ নিয়ে নামেন শিমুল ও আরেক ভাড়াটে কিলার জিহাদ।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসেন ঝিনাইদহের এমপি আনোয়ারুল আজিম। ১৩ মে রাতে তিনি নিউটাউনের ফ্ল্যাটে খুন হন। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর তার হত্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার হয় জিহাদ ও সিয়াম নামে দুই ব্যক্তি। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম আরও জানায় মুম্বাই থেকে কলকাতায় এসে কাজ শেষের পর বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার।

পুলিশ জানায়, এমপি আনোয়ারুল আজিমের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হাড়, মাংস পৃথক করে হলুদ মাখিয়ে একেকটি টুকরো একেক জায়গার জলাশয়ে ফেলা হয়েছে। উল্লেখ্য, আনোয়ারুল আজিম আনার ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মধুগঞ্জ বাজার এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল আজিম আনার আওয়ামী লীগের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে পরপর তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

খুনের সরঞ্জাম কিনে দিয়ে কলকাতা ছাড়েন শাহীন

আপডেট সময়: ০১:২১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যার মূল্য পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন আনারকে হত্যায় কলকাতায় যাবতীয় কার্যক্রম আগে থেকেই সম্পন্ন করে রাখেন। আগে থেকেই তিনি সরঞ্জাম কিনে দেন। এরপর সেগুলো তিনি তার বেয়াই শিমুল ভূঁইয়াকে বুঝিয়ে দেন। শিমুল তার ভাড়াটে খুনি দিয়ে ‘কিলিং মিশন’ সম্পন্ন করেন। এরপর ‘কাট-আউট’ পদ্ধতি ব্যবহার করে লাশের টুকরো গায়েব করা হয়। আজিমকে হত্যার পর লাশের টুকরো করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার একটি খালে ফেলা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন। এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যায় শাহীনের সঙ্গে আরও কোনো রাঘববোয়াল আছে কি না তারও খোঁজ করছে তদন্তকারী দল। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত শাহীনের বাইরে প্রভাবশালী অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আমরা পাইনি।

এদিকে এমপি আজিম হত্যায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনকে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন– শিমুল ভূঁইয়া ওরফে সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান, ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ও সেলিস্তি রহমান। এর আগে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি প্রতিনিধি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সাতজনের মধ্যে চারজনকে এখনো সবাইকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িতরা হলো– মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন, ভাড়াটে খুনি সিয়াম, ফয়সাল ও মোস্তাফিজ। শাহীন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে জানা যায়। ভোলার বাসিন্দা সিয়াম গত ১৭ মে ভারত থেকে নেপালে গেছেন। আর ফয়সাল-মোস্তাফিজের ব্যাপারে কিছু জানা যাচ্ছে না। তারা দুজই খুলনার বাসিন্দা এবং শাহীনের পরিচিত। হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের নতুন পাসপোর্ট করে কলকাতায় নেওয়া হয়। মিশন শেষে তারা দেশে ফেরেন।

কলকাতার নিউটাউনে যে ফ্ল্যাটে এমপি আজিমকে হত্যা করা হয়, সেখানকার দুটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। একটি ফুটেজে ১৩ মে দুপুরে এমপি আজিমকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় তার পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট। হাতে ছিল কাগজপত্রসহ ফাইল। একই সময় অন্য দুজন ফ্ল্যাটে ঢোকেন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের একজন হলেন শিমুল ভূঁইয়া ও অন্যজন ভাড়াটে কিলার ফয়সাল। অন্য একটি ফুটেজে ওইদিন বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে দুজনকে ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দেখা যায়। তাদের একজনের হাতে ছিল একটি সবুজ রঙের বড় ট্রলিব্যাগ। আরেকজনের হাতে কয়েকটি পলিথিন ব্যাগ। তারা লিফটে নামেন। গোয়েন্দারা বলছেন, ওই ব্যাগে ছিল এমপির লাশের অংশ। ব্যাগ নিয়ে নামেন শিমুল ও আরেক ভাড়াটে কিলার জিহাদ।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসেন ঝিনাইদহের এমপি আনোয়ারুল আজিম। ১৩ মে রাতে তিনি নিউটাউনের ফ্ল্যাটে খুন হন। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর তার হত্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এ ঘটনার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার হয় জিহাদ ও সিয়াম নামে দুই ব্যক্তি। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম আরও জানায় মুম্বাই থেকে কলকাতায় এসে কাজ শেষের পর বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার।

পুলিশ জানায়, এমপি আনোয়ারুল আজিমের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হাড়, মাংস পৃথক করে হলুদ মাখিয়ে একেকটি টুকরো একেক জায়গার জলাশয়ে ফেলা হয়েছে। উল্লেখ্য, আনোয়ারুল আজিম আনার ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মধুগঞ্জ বাজার এলাকায়। পেশায় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল আজিম আনার আওয়ামী লীগের কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে পরপর তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।