আজ বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে সিডিপি

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ১১:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন যে, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে। সিডিপি বলেছে, অতিরিক্ত সময়কে দেশের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই সময়সীমা বৃদ্ধি সংস্কার কার্যক্রম শিথিল করার কারণ নয়; বরং পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার অনুঘটক হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন।

সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি নিকট ও মধ্যমেয়াদে এসব অর্জন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম। ফলে দেশের উত্তরণ সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক আস্থা প্রকাশ করেছে কমিটি।

তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে সিডিপি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সিডিপি বাংলাদেশের স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রস্তুতি পর্ব সম্প্রসারিত হলে বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রভাব আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

একই সঙ্গে সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা উন্নয়ন এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যৌক্তিক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে সিডিপি।

সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের আশা, চলমান সংস্কার কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ একটি টেকসই, সুশৃঙ্খল ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে সিডিপি

আপডেট সময়: ১১:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন যে, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা যৌক্তিক হবে। সিডিপি বলেছে, অতিরিক্ত সময়কে দেশের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই সময়সীমা বৃদ্ধি সংস্কার কার্যক্রম শিথিল করার কারণ নয়; বরং পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার অনুঘটক হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সিডিপির কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করেন।

সিডিপির মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই প্রয়োজনীয় সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি নিকট ও মধ্যমেয়াদে এসব অর্জন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম। ফলে দেশের উত্তরণ সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক আস্থা প্রকাশ করেছে কমিটি।

তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে সিডিপি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সিডিপি বাংলাদেশের স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রস্তুতি পর্ব সম্প্রসারিত হলে বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রভাব আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

একই সঙ্গে সহজ শর্তে অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা উন্নয়ন এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যৌক্তিক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে সিডিপি।

সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের আশা, চলমান সংস্কার কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ একটি টেকসই, সুশৃঙ্খল ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।