প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় চিত্রনায়িকা রুবিনা আক্তার নিঝুম, তার স্বামী মামূনুর রশীদ রাহুল, রাহুলের ভাই নান্নু মিঞা ও বোন মহিমা বিবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি বুধবার এ পরোয়ানা জারি করেন।
মোছাম্মৎ সুরভী বেগম নামের এক নারী গত ২৯ জানুয়ারি এই মামলা দায়ের করেন। আদালত সেদিন আসামিদের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে সমন জারি করে। তবে অভিযোগকারীকে চিনেন না বলে কাতার থেকে নিঝুম রুবিনা বলেন, ‘এই ঘটনার ব্যাপারে আমি অবগত নই। যিনি মামলা করেছেন তাকে আমি চিনি না। বিষয়টি যখন আদালতে গড়িয়েছে তখন জানতে পারি আমার স্বামী তার খালাতো ভাইকে টাকা এনে দিয়েছিল তৃতীয় পক্ষ হিসেবে। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা নির্ধারিত সময়ে দেয়া হবে। তার আগেই তারা মামলা করেছেন। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। অযথা আমার নাম টেনে কাভারেজ নেয়া হচ্ছে। সাংবাদিক ভাই-বোনদের বলব আপনারা বিষয়টা যাচাই করে সংবাদ করবেন।’
নিঝুমের স্বামী রাহুল বলেন, ‘খালাতো ভাইকে টাকা ধার নিয়ে দিয়েছিলাম। এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা নির্ধারিত সময় দেওয়া হবে। তবে ওই মহিলা এখন অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। আমার খালাতো ভাইয়ের কাছে এখন শুধু সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা পাবে। তবে নিঝুম এই ব্যাপারে অবগত নয়। তাকে অযথা টানা হচ্ছে সম্মানহানি করার জন্য।’ মামলায় বলা হয়েছে, সুরভী বেগম ও রুবিনা নিঝুম পূর্ব পরিচিত। রুবিনা ও রাহুল বিভিন্ন সময় সুরভীর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে যথাসময়ে ফেরত দিয়ে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন। সেই সুবাদে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর রুবিনা ও রাহুল সুরভীর কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ধার চান। ১১ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দফায় তাদের সাড়ে ১২ লাখ টাকা দেন সুরভী। দুই মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেবেন বলে তাদের মধ্যে চুক্তিনামা সম্পাদিত হয়। রাহুল টাকা ফেরত না দিলে বা মারা গেলে তার ভাই নান্নু টাকা ফেরত দেবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে সুরভী বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আর্থিক অস্বচ্ছলতা দেখা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজনে গত বছরের ১ মে টাকা ফেরত চান। তবে রুবিনা ও রাহুল টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। ২২ সেপ্টেম্বর রুবিনা ও রাহুলের রামপুরার বনশ্রী বাসায় গিয়ে টাকা ফেরত চান সুরভী। টাকা ফেরত দেয়ার কথা অস্বীকার করে সুরভীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ বিষয়ে সুরভী রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রিপোর্টার 


























