শ্যামনগর প্রতিনিধি: সরকারি নির্দেশনা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আবারও প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়া, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ৫ থেকে ৯টি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করে। অভিযোগ রয়েছে, দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী রেফার হলে এসব প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে বেশি ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, মুমূর্ষ রোগীকে জেলা শহর সাতক্ষীরায় নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দাবি করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দরকষাকষির সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পূর্বে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় এই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে কেউ আত্মগোপনে থাকলেও কয়েকজনের মাধ্যমে সিন্ডিকেটটি এখনও সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কথাও শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে হাসপাতাল চত্বরে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিছুদিন তা বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবারও হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স রাখা শুরু হয়েছে। হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাইরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতাল চত্বরে কোনো অবৈধ স্ট্যান্ডের অনুমতি নেই। একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। সিভিল সার্জনও হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার অনুমতি নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এক প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালক আনিসুর রহমান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে সেবা দিয়ে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি কাউকে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স রাখার অনুমতি দেননি। সংশ্লিষ্টরা তার কাছে বিষয়টি তুলে ধরলেও তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোগীসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
রিপোর্টার 
























