আজ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা স্থলবন্দর

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:৪৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাক চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো গন্তব্যে পণ্য পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে পরিবহন ব্যয়—লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাক সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে ধীরগতি। এতে বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না, জমে থাকছে পণ্যের স্তূপ।

ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক রিপন হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। “যে অল্প কিছু গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও অনেক সময় মাঝপথে তেল ফুরিয়ে থেমে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গমুখী অনেক ট্রাক অর্ধেক পথেই আটকে পড়ছে,” বলেন তিনি। এতে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে ক্রেতাপক্ষ, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাতক্ষীরা ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। “আগে ঢাকায় একটি ট্রাক পাঠাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তীব্র তেল সংকট থাকায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেল সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে। ফলে খালাস হওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাজার সরবরাহে।

ট্রাকচালকদের দুর্ভোগও কম নয়। চালক বাবু বলেন, “ভোমরা থেকে মাল নিয়ে বের হলে পথে অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যায় না। এতে আয় কমে যাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে।” আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, আগে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হলেও এখন এক সপ্তাহেও তা সম্ভব হচ্ছে না। “পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যায় না,” বলেন তিনি।

চালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে খাওয়া-ঘুমও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। “আগে চট্টগ্রাম রুটে ১৮০ লিটার তেল লাগত, এখন অল্প অল্প করে নিতে নিতে প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত লাগছে,” বলেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। কাঁচামরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, “ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে উন্নীত হওয়ায় বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঠিক এই সময়ে জ্বালানি সংকট আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিচ্ছে।” তিনি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকটে স্থবির ভোমরা স্থলবন্দর

আপডেট সময়: ০৯:৪৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাক চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো গন্তব্যে পণ্য পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে পরিবহন ব্যয়—লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাক সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে ধীরগতি। এতে বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না, জমে থাকছে পণ্যের স্তূপ।

ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক রিপন হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। “যে অল্প কিছু গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও অনেক সময় মাঝপথে তেল ফুরিয়ে থেমে যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গমুখী অনেক ট্রাক অর্ধেক পথেই আটকে পড়ছে,” বলেন তিনি। এতে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে ক্রেতাপক্ষ, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাতক্ষীরা ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। “আগে ঢাকায় একটি ট্রাক পাঠাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে,” বলেন তিনি। সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তীব্র তেল সংকট থাকায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেল সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে। ফলে খালাস হওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাজার সরবরাহে।

ট্রাকচালকদের দুর্ভোগও কম নয়। চালক বাবু বলেন, “ভোমরা থেকে মাল নিয়ে বের হলে পথে অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যায় না। এতে আয় কমে যাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে।” আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, আগে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হলেও এখন এক সপ্তাহেও তা সম্ভব হচ্ছে না। “পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যায় না,” বলেন তিনি।

চালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে খাওয়া-ঘুমও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। “আগে চট্টগ্রাম রুটে ১৮০ লিটার তেল লাগত, এখন অল্প অল্প করে নিতে নিতে প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত লাগছে,” বলেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। কাঁচামরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, “ভোমরা স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে উন্নীত হওয়ায় বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঠিক এই সময়ে জ্বালানি সংকট আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিচ্ছে।” তিনি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।