নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং কার্যক্রম। এতে ঝুলে আছে ৭ লাখ ২৪ হাজারের বেশি লাইসেন্স। জরুরি ভিত্তিতে সীমিতসংখ্যক প্রিন্টিং করা হলেও এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীরা পড়েছেন মারাত্মক ভোগান্তিতে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, এতদিন প্রতিষ্ঠানটির হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করত ভারতের মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড (এমএসপি)। তবে গত ২৮ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১৩ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন শেষে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে কয়েক মাস লেগে যাবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।
ফলে লাইসেন্স প্রিন্টিং কার্যক্রম শুরুর আগ পর্যন্ত ঝুলে থাকা লাইসেন্সের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিআরটিএর অদূরদর্শিতা ও পরিকল্পনার অভাবের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। পুরনো ঠিকাদারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলে এমন ভোগান্তি হতো না।
ঢাকার আদাবরের বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন,
“কাজের জন্য আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকে আছে। সময়মতো না পেলে বিদেশে কাজের সুযোগ হাতছাড়া হবে।”
বিআরটিএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রিন্টিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দরপত্র আহ্বান করায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে জাল ও ভুয়া লাইসেন্স ঠেকাতে চিপযুক্ত স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করে বিআরটিএ। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী এমএসপি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লাখ কার্ড প্রিন্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার চুক্তিমূল্য ছিল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটি মেয়াদে ৩৩ লাখ কার্ড প্রিন্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এর আগে তিনি এক সভায় জানিয়েছিলেন,
“বর্তমানে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৫৮টি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেন্ডিং রয়েছে। ভেন্ডর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় জরুরি ভিত্তিতে কিছু লাইসেন্স প্রিন্ট করা হচ্ছে।”
রিপোর্টার 




























