আজ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ Logo জনগণকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে: এমপি মারদিয়া মমতাজ Logo খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ Logo দেবহাটায় সরকারি জমিতে পাকাঁ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ Logo টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo আশাশুনিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo আশাশুনি সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ Logo জাল নোট ঠেকাতে সাতক্ষীরার পশুর হাটে র‌্যাবের আধুনিক বুথ চালু Logo বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা Logo উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

‘জুলাই আন্দোলন মানি মেকিং মেশিন, টেন্ডার-তদবির হয়েছে’: উমামা

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৬:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • ২২৭ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এক ফেসবুক লাইভে এসে জুলাই আন্দোলনকে ‘মানি মেকিং মেশিন’ আখ্যা দিয়েছেন। রোববার (২৭ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি টেন্ডার, তদবির, ডিসি নিয়োগসহ নানা ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলেছেন।

🗣️ ‘স্বপ্ন ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভয়াবহ’

লাইভে উমামা বলেন,

“জুলাই কেন মানি মেকিং মেশিন হবে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটাই হয়েছে।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান,
“৩০–৪০ জন নিয়ে মিছিল করেছি, বলতাম ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। কিন্তু ভাবিনি এই স্লোগান দিতে গিয়ে শিশুসহ মানুষ রাস্তায় জীবন দেবে।”

⚖️ পিছনে সরে যাওয়া ও বিচ্ছিন্নতা

উমামা জানান, ৫ আগস্টের পর তিনি আন্দোলন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেন। তার ভাষায়,

“বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম বলেই হয়তো কেউ আর আমাকে ডাকেনি।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন,

“সমন্বয়কের পরিচয়ে কেউ কেউ জায়গা দখল, চাঁদাবাজি, এমনকি ডিসি নিয়োগে তদবিরে লিপ্ত হয়েছে। এটি যেন এখন রক্ষীবাহিনীর মতো আচরণ করছে।”

💰 অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ

উমামা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন,

“আমি মুখপাত্র হওয়ার পরই আবিষ্কার করি—জুলাই আন্দোলন মানি মেকিং মেশিনে পরিণত হয়েছে। টেন্ডার, তদবির, এমনকি ডিসি নিয়োগ পর্যন্ত এই ব্যানারে হয়েছে। এতদিন আমার কোনো ধারণাই ছিল না।”

তিনি আরও বলেন,

“অনেকে বলে আমি হাজার কোটি টাকা কামিয়েছি। অথচ আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। পরিবারের সহযোগিতায়ই দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি।”

😔 ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিচ্ছিন্নতা

ছাত্র ফেডারেশন ছাড়ার পর নিজের প্রতি অনেকের ‘অপমানজনক আচরণ’ নিয়ে তিনি বলেন,

“আমার মেসেজ দেখতো না। ছাত্রশক্তি কোরামের আচরণে মনে হতো, আমি যেন বানের জলে ভেসে এসেছি।”

তিনি দাবি করেন,

“জুলাই আন্দোলনে আমার অবদান তখনই বেশি চোখে পড়ে, যখন আমি প্ল্যাটফর্মে ছিলাম না।”

ভবিষ্যৎ ভাবনা ও প্রশ্ন

উমামা ফাতেমা বলেন,

“এখন প্রশ্ন উঠছে—বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম আদৌ প্রয়োজন আছে কি না? এটা কেবল ছাত্রদের নয়, বরং সকল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।”

তিনি মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি করা এই আন্দোলনের আদর্শ যেন রাজনৈতিক বা আর্থিক বাণিজ্যের হাতিয়ার না হয়ে পড়ে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ

‘জুলাই আন্দোলন মানি মেকিং মেশিন, টেন্ডার-তদবির হয়েছে’: উমামা

আপডেট সময়: ০৬:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এক ফেসবুক লাইভে এসে জুলাই আন্দোলনকে ‘মানি মেকিং মেশিন’ আখ্যা দিয়েছেন। রোববার (২৭ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি টেন্ডার, তদবির, ডিসি নিয়োগসহ নানা ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলেছেন।

🗣️ ‘স্বপ্ন ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভয়াবহ’

লাইভে উমামা বলেন,

“জুলাই কেন মানি মেকিং মেশিন হবে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটাই হয়েছে।”
তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান,
“৩০–৪০ জন নিয়ে মিছিল করেছি, বলতাম ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। কিন্তু ভাবিনি এই স্লোগান দিতে গিয়ে শিশুসহ মানুষ রাস্তায় জীবন দেবে।”

⚖️ পিছনে সরে যাওয়া ও বিচ্ছিন্নতা

উমামা জানান, ৫ আগস্টের পর তিনি আন্দোলন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেন। তার ভাষায়,

“বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম বলেই হয়তো কেউ আর আমাকে ডাকেনি।”

তিনি আক্ষেপ করে বলেন,

“সমন্বয়কের পরিচয়ে কেউ কেউ জায়গা দখল, চাঁদাবাজি, এমনকি ডিসি নিয়োগে তদবিরে লিপ্ত হয়েছে। এটি যেন এখন রক্ষীবাহিনীর মতো আচরণ করছে।”

💰 অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ

উমামা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন,

“আমি মুখপাত্র হওয়ার পরই আবিষ্কার করি—জুলাই আন্দোলন মানি মেকিং মেশিনে পরিণত হয়েছে। টেন্ডার, তদবির, এমনকি ডিসি নিয়োগ পর্যন্ত এই ব্যানারে হয়েছে। এতদিন আমার কোনো ধারণাই ছিল না।”

তিনি আরও বলেন,

“অনেকে বলে আমি হাজার কোটি টাকা কামিয়েছি। অথচ আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। পরিবারের সহযোগিতায়ই দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি।”

😔 ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিচ্ছিন্নতা

ছাত্র ফেডারেশন ছাড়ার পর নিজের প্রতি অনেকের ‘অপমানজনক আচরণ’ নিয়ে তিনি বলেন,

“আমার মেসেজ দেখতো না। ছাত্রশক্তি কোরামের আচরণে মনে হতো, আমি যেন বানের জলে ভেসে এসেছি।”

তিনি দাবি করেন,

“জুলাই আন্দোলনে আমার অবদান তখনই বেশি চোখে পড়ে, যখন আমি প্ল্যাটফর্মে ছিলাম না।”

ভবিষ্যৎ ভাবনা ও প্রশ্ন

উমামা ফাতেমা বলেন,

“এখন প্রশ্ন উঠছে—বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম আদৌ প্রয়োজন আছে কি না? এটা কেবল ছাত্রদের নয়, বরং সকল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।”

তিনি মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি করা এই আন্দোলনের আদর্শ যেন রাজনৈতিক বা আর্থিক বাণিজ্যের হাতিয়ার না হয়ে পড়ে।