আজ রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

দেবহাটায় সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর গণবিক্ষোভ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০২:০০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার এল্লারচর থেকে পারুলিয়া পর্যন্ত তিন উপজেলার সংযোগস্থলে কলকাতা খালের দুই পাশের ভাঙা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে দেবহাটা উপজেলার কদমখালী-শশাডাঙ্গা এলাকার সাধারণ মানুষ । মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকাল সাড়ে তিনটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

প্রবীণ নাগরিক নেতা ও শিক্ষক নিরঞ্জন মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, ভদ্রকান্ত বাছাড়, মোহাম্মদ মোস্তফা মোল্লা, আব্দুস সাত্তার, বিজন বাছাড়, অমল সরকার, ছালেক রেজা, আলমগীর হোসেন, সবিতা রাণী, মো. আব্দুল্লাহ, কানাই সরকার, আজিজ মোড়ল, মহাদেব সরকার, বিন্দা সরকার, রাজ্জাক গাজী, জিতেন সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধনে দেবহাটার কদমখালী গ্রামের অবসপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নিরঞ্জন মন্ডল বলেন, সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের কদমখালি, শশাডাঙ্গা ও আশপাশ এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ, অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি বাগমারী ব্রিজ থেকে শশাডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে রাস্তাটির দুই পাশে ভেঙে গিয়ে কলকাতা খালের দিকে ধসে পড়ছে। ফলে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী শত শত মানুষ, বিভিন্ন যানবাহন ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে এলাকাবসীর মধ্যে এক ধরনের জনক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর সমাধান হলো দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা। তিনি এবিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কদমখালী গ্রামের গৃহবধু সবিতা রাণী বলেন, রাস্তাটির এই অবস্থার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। স্থানীয় জনগণের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ, কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে মারাত্মক বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যদি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার না করা হয় তাহলে পুরোপুরি ভাবে সেটি কলকাতা খালে ধসে পড়বে এবং পরবর্তীতে সংস্কার করতে গেলে কয়েকগুণ বেশি খরচ হবে। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে এখনই সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

শশাডাঙ্গা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ বলেন, মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ার বৃদ্ধি পেলে স্রোতের টানে ভেঙে পড়ে তিন উপজেলার সংযোগ রাস্তাটির পাশের মাটি। কলকাতা খাল সংযুক্ত আরেকটি খালে বাঁধের কারণে নদীর স্রোতের টানে এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা এখন ক্রমশঃ পূর্ণাঙ্গ ভাঙনের কবলে পড়েছে। যে কারণে কদমখালী-শশাডাঙ্গা এলাকার মানুষ দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এলাকায় গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। তিনি এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি হিসাবে রাস্তাটি দ্রুত সংষ্কারের জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবহাটায় সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর গণবিক্ষোভ

আপডেট সময়: ০২:০০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

সাতক্ষীরার এল্লারচর থেকে পারুলিয়া পর্যন্ত তিন উপজেলার সংযোগস্থলে কলকাতা খালের দুই পাশের ভাঙা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে দেবহাটা উপজেলার কদমখালী-শশাডাঙ্গা এলাকার সাধারণ মানুষ । মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিকাল সাড়ে তিনটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

প্রবীণ নাগরিক নেতা ও শিক্ষক নিরঞ্জন মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনবিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, ভদ্রকান্ত বাছাড়, মোহাম্মদ মোস্তফা মোল্লা, আব্দুস সাত্তার, বিজন বাছাড়, অমল সরকার, ছালেক রেজা, আলমগীর হোসেন, সবিতা রাণী, মো. আব্দুল্লাহ, কানাই সরকার, আজিজ মোড়ল, মহাদেব সরকার, বিন্দা সরকার, রাজ্জাক গাজী, জিতেন সরকার প্রমুখ।

মানববন্ধনে দেবহাটার কদমখালী গ্রামের অবসপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নিরঞ্জন মন্ডল বলেন, সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের কদমখালি, শশাডাঙ্গা ও আশপাশ এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ, অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি বাগমারী ব্রিজ থেকে শশাডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে রাস্তাটির দুই পাশে ভেঙে গিয়ে কলকাতা খালের দিকে ধসে পড়ছে। ফলে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী শত শত মানুষ, বিভিন্ন যানবাহন ও রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এর ফলে এলাকাবসীর মধ্যে এক ধরনের জনক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর সমাধান হলো দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা। তিনি এবিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কদমখালী গ্রামের গৃহবধু সবিতা রাণী বলেন, রাস্তাটির এই অবস্থার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। স্থানীয় জনগণের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ, কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে মারাত্মক বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যদি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার না করা হয় তাহলে পুরোপুরি ভাবে সেটি কলকাতা খালে ধসে পড়বে এবং পরবর্তীতে সংস্কার করতে গেলে কয়েকগুণ বেশি খরচ হবে। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে এখনই সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

শশাডাঙ্গা গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ বলেন, মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ার বৃদ্ধি পেলে স্রোতের টানে ভেঙে পড়ে তিন উপজেলার সংযোগ রাস্তাটির পাশের মাটি। কলকাতা খাল সংযুক্ত আরেকটি খালে বাঁধের কারণে নদীর স্রোতের টানে এই রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা এখন ক্রমশঃ পূর্ণাঙ্গ ভাঙনের কবলে পড়েছে। যে কারণে কদমখালী-শশাডাঙ্গা এলাকার মানুষ দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এলাকায় গণবিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। তিনি এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি হিসাবে রাস্তাটি দ্রুত সংষ্কারের জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।