আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ Logo ধান কাটতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষককে জখম ও হয়রানী Logo আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল বৈঠক Logo দায়ের কোপে আহত ব্যক্তির মৃত্যু, হামলার অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে Logo সরকারি কলেজ পরিদর্শনে এমপি ইজ্জত উল্লাহ, পাইলট হাইস্কুলে স্মৃতিচারণ Logo দেবহাটায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার Logo আশাশুনিতে শিক্ষক ও পিটিএ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ Logo আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে র‍্যালি, আলোচনা ও মহড়া Logo পানামায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, আগের কম্পনে আহত ২৭ Logo রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে জমি দখল, ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ

  • আজকের বাণী
  • আপডেট সময়: ০৫:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
  • ২১৮ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার থানাঘাটা এলাকায় পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল, বসতঘর ভাঙচুর এবং গাছগাছালি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে খুলনা জেলা পরিষদের কর্মচারী রোকনুজ্জামান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ ইমরান হোসেন সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মোঃ ইমরান হোসেন ও তার পরিবার ২০০৬ সালে জমিটি ক্রয় করে নিয়মিতভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। তারা জমিতে পাকা প্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। গত ২৩ মে ২০২৫ তারিখ সকাল ৮টার দিকে রোকনুজ্জামান (৪৫), যিনি খুলনা জেলা পরিষদে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত, তার প্রভাব খাটিয়ে শরিফুজ্জামান, আব্দুর রহমানসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জন লোক নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা ঘরের চারপাশের পাকা পাঁচিল, কাঠামো ও ফলজ গাছপালা কেটে ফেলে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে এবং নিজেদের নামে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা এক বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকায় বাড়ি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে তারা এ হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী বিউটি খাতুন বলেন, “এই জমিটা আমরা ২০০৬ সালে কিনেছি। জমি কেনার পর থেকেই আমরা ভোগদখলে আছি। জায়গাটিতে ঘর ছিল, পাকা পাঁচিল ছিল, গাছপালা ছিল। আমরা বিয়েতে গিয়েছিলাম, সেই ফাঁকে রোকনুজ্জামান ও তার লোকজন এসে ঘর ভেঙে গাছ কেটে ঘরের ভেতরে নতুন পাঁচিল তুলে দেয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রোকনুজ্জামান বলেন, “সব দখল করিই ফেলাইছি। আমার জন্মলগ্ন থেকে ওই রেকর্ডিয় জমি আমাদের। আদালতে সবকিছু ওকে, এক নম্বরে আমি, দুই-তিন নম্বরে ওরা। ওরা আদালত মানে না। তাই ওসি সাহেব আমাকে পাঠাইছিল, আরো লোকজনও পাঠাইছিল। আদালতের নির্দেশে ওখানে আমি কাজ করছি। ওদের বলছি আসতে, কেউ আসে নাই। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ওদের চেয়ে গরিব, তারাও বলছে জায়গা ছেড়ে দিতে, তাই যা বলেছে আমি তাই করেছি।”
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “অনেকে পুলিশের নাম কিংবা প্রভাবশালী পদ ব্যবহার করে এসব কাজ করে, কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ নেই। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ এখন অনেক সীমিতভাবে হস্তক্ষেপ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা জেলা পরিষদের কর্মচারী হয়েও এ ধরনের ভূমি দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষকের পদায়নপত্র প্রদানকালে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ

জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে জমি দখল, ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৫:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার থানাঘাটা এলাকায় পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল, বসতঘর ভাঙচুর এবং গাছগাছালি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে খুলনা জেলা পরিষদের কর্মচারী রোকনুজ্জামান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ ইমরান হোসেন সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, মোঃ ইমরান হোসেন ও তার পরিবার ২০০৬ সালে জমিটি ক্রয় করে নিয়মিতভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। তারা জমিতে পাকা প্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। গত ২৩ মে ২০২৫ তারিখ সকাল ৮টার দিকে রোকনুজ্জামান (৪৫), যিনি খুলনা জেলা পরিষদে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত, তার প্রভাব খাটিয়ে শরিফুজ্জামান, আব্দুর রহমানসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জন লোক নিয়ে জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন।
এ সময় তারা ঘরের চারপাশের পাকা পাঁচিল, কাঠামো ও ফলজ গাছপালা কেটে ফেলে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে এবং নিজেদের নামে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা এক বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকায় বাড়ি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে তারা এ হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী বিউটি খাতুন বলেন, “এই জমিটা আমরা ২০০৬ সালে কিনেছি। জমি কেনার পর থেকেই আমরা ভোগদখলে আছি। জায়গাটিতে ঘর ছিল, পাকা পাঁচিল ছিল, গাছপালা ছিল। আমরা বিয়েতে গিয়েছিলাম, সেই ফাঁকে রোকনুজ্জামান ও তার লোকজন এসে ঘর ভেঙে গাছ কেটে ঘরের ভেতরে নতুন পাঁচিল তুলে দেয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রোকনুজ্জামান বলেন, “সব দখল করিই ফেলাইছি। আমার জন্মলগ্ন থেকে ওই রেকর্ডিয় জমি আমাদের। আদালতে সবকিছু ওকে, এক নম্বরে আমি, দুই-তিন নম্বরে ওরা। ওরা আদালত মানে না। তাই ওসি সাহেব আমাকে পাঠাইছিল, আরো লোকজনও পাঠাইছিল। আদালতের নির্দেশে ওখানে আমি কাজ করছি। ওদের বলছি আসতে, কেউ আসে নাই। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ওদের চেয়ে গরিব, তারাও বলছে জায়গা ছেড়ে দিতে, তাই যা বলেছে আমি তাই করেছি।”
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “অনেকে পুলিশের নাম কিংবা প্রভাবশালী পদ ব্যবহার করে এসব কাজ করে, কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ নেই। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ এখন অনেক সীমিতভাবে হস্তক্ষেপ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা জেলা পরিষদের কর্মচারী হয়েও এ ধরনের ভূমি দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।