সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কমিটি পাল্টা কমিটির বারংবার সাংবাদিকদের সাথে প্রতারণা করার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে ২০২৫) সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট মোড়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাপ্তাহিক সূর্যের আলো পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মোঃ মুনসুর রহমান। তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব কখনো পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন হয়ে উঠতে পারেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে, তা উপেক্ষা করেই বারবার কতিপয় সাংবাদিক মহল দখল করেছে। বানিয়েছে একই নামে কমিটি পাল্ট কমিটি। ওই কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের পছন্দে কোনো কোনো ব্যক্তি’র কোনো পত্রিকা না থাকলেও সদস্যপদ দিয়ে প্রেসক্লাবে গ্রুপ সাংবাদিকতার বিচরণ ঘটিয়েছে, এমনকি অনেকের ধারাবাহিক কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই করে সদস্যপদ দিয়ে কিছুদিন পরে স্থগিতও করেছে। আবার উভয় গ্রুপ নতুন করে সদস্য ফরম বিতরণ করছেন। এই কার্যক্রম স্থগিত রাখাতে অনুরোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, সাগর বিধৌত সুন্দরবন উপকন্ঠে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত এক প্রাচীন জনপদ- ‘সাতক্ষীরা’। অবহেলার জীর্ণতা বক্ষে ধারণ করে কালের স্বাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। প্রাচীন কালের অনেক গৌরব গাঁথায় সমৃদ্ধ এই জনপদ কালের বিবর্তনে হারিয়েছে তার জৌলুস। মুছে গেছে অনেক কীর্তি। তবে জনমানুষের সামনে তুলে ধরতে ভুল করেনি সাংবাদিকরা। তাদের কোনো সংগঠন ছিলো না। সেই প্রয়াসে ১৯৬৯ সালে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে ‘সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব’ গঠিত হয়। তবে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব গঠিত হওয়ার পর থেকে তার কোন ধারাবাহিক কার্যক্রম ছিল না। এমনকি সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক নাম-পরিচয় মুছে যেতে থাকে এবং পূর্বের ন্যায় প্রেসক্লাব কুক্ষিগত করে রাখার মানসে সভাপতি-সম্পাদক সাংবাদিকদের নতুন করে সদস্যপদ প্রদান করেনি। তাই সাংবাদিকরা নিজেদের ঐক্য ধরে রাখার মানসে উপজেলা ভিক্তিক পৃথক পৃথক সাংবাদিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় কলারোয়া প্রেসক্লাব, আশাশুনি প্রেসক্লাব, কালিগঞ্জ আঞ্চলিক প্রেসক্লাব পরবর্তীতে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে রূপান্তরিত হয়। পুনরায় আশাশুনি প্রেসক্লাব গঠন, তালা প্রেসক্লাব, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব , দেবহাটা প্রেসক্লাব, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাব, তালা সদর প্রেসক্লাব, সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক পরিষদ, ধুলিহর প্রেসক্লাব পরবর্তীতে বিডিএফ প্রেসক্লাবে রুপান্তরিত, সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরাম, কুলিয়া আঞ্চলিক প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সাতক্ষীরা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাতক্ষীরা সম্মিলিত সাংবাদিক এসোসিয়েশন, সীমান্ত রিপোর্টার্স ক্লাব, সাতক্ষীরা অনলাইন প্রেসক্লাব, সাতক্ষীরা রিপোর্টার্স ক্লাব, সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাতক্ষীরা টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, ‘সাংবাদিক ঐক্য, ‘সাতক্ষীরা সাংবাদিক সমিতি, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাতক্ষীরা সাংবাদিক পরিষদ, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্র, সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সাংবাদিক ক্লাব, কদমতলা আঞ্চলিক প্রেসক্লাব, ঝাউডাংগা প্রেসক্লাব, এডিএস প্রেসক্লাব, সাতক্ষীরা নিউজ ক্লাব, আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাব (২০১৪), শ্রীউলা আঞ্চলিক প্রেসক্লাব, আশাশুনি অনলাইন প্রেসক্লাব (২০১৭), বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাব, দরগাহপুর প্রেসক্লাব, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাব (১৯৯৭), দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাব (২০২৪), কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাব, কলারোয়া পৌর প্রেসক্লাব, কলারোয়ার বালিয়াডাংগা বাজারস্থ সীমান্ত প্রেসক্লাব, তালা রিপোর্টার্স ক্লাব, তালা সাংবাদিক ইউনিয়ন, পাটকেলঘাটা রিপোর্টার্স ক্লাব, পাটকেলঘাটা নিউজ ক্লাব, শ্যামনগর রিপোর্টার্স ক্লাব, শ্যামনগর অনলাইন প্রেসক্লাব, শ্যামনগর অনলাইন নিউজ ক্লাব, ভেটখালী বাজারস্থ সীমান্ত প্রেসক্লাব, ভেটখালী রিপোর্টার্স ক্লাব, রমজাননগর-কৈখালী রিপোটার্স ক্লাব, উপকূলীয় প্রেসক্লাব, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব, কালিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি, কালিগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাব, নলতা শরীফ প্রেসক্লাব, ক্রাইম এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা, জেলা প্রতিনিধির কার্যালয় সাতক্ষীরা, ভোমরা প্রেসক্লাব, ভোমরা স্থলবন্দর প্রেসক্লাবসহ ৮৫ এর অধিক ভিন্ন ভিন্ন নামে সাংবাদিক সংগঠন গড়ে তোলেন সাংবাদিকরা। উপরিউক্ত সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে সাংবাদিক ছাড়াও সংগঠন সদস্য হয়ে বসে আছে অনেকে। এমনকি এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কিনেছেন অখ্যাত পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা ও অনলাইন টিভির সাংবাদিক কার্ডও। তারা সাংবাদিক সেজে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ ও ‘সাংবাদিক’ লিখে বোকা বানাচ্ছে বিভিন্ন মহলকে। অনেকে রীতিমতো মাদক সেবন এবং বহনের কাজও করছে।’ এই নাম ধারী সাংঘাতিকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরা। এছাড়াও মতৈক্য না হওয়ায় সংগঠন বিমুখ অধিকাংশ সাংবাদিক। এই সাংবাদিকরা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নামক সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক সদস্যভুক্ত হলে তৈরি হতো একটি শক্তিশালী সাংবাদিক নেটওয়ার্ক। কমে যেতো অনেকাংশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিও।
মোঃ মুনসুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাতের ৬১ জন, দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকার ৪০ জন, দৈনিক সাতনদী পত্রিকার ৩৪ জন, দৈনিক কাফেলা পত্রিকার ৩৭ জন, দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার ৪৯ জন, দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা পত্রিকার ৪৫ জন, দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার ৪২ জন, দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার ৬১ জন, দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা পত্রিকার আনু. ২০, দৈনিক সাতঘোরিয়া পত্রিকার ৩৫ জন, দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল পত্রিকার আনু. ৩৮ জন, দৈনিক হৃদয় বার্তা পত্রিকার আনু. ৩০, দৈনিক প্রথম লহরী পত্রিকার আনু. ১০ জন, সাপ্তাহিক মুক্ত সাধীনের ১৯ জন, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো পত্রিকার ১৬ জন ও সাপ্তাহিক ইচ্ছেনদী পত্রিকার ১২ জন, দৈনিক সাতক্ষীরার সংবাদ পত্রিকার আনু. ২০ জন এবং বাইরেও জেলার প্রায় ১৩৫ এর অধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের জেলা প্রতিনিধি/সংবাদদাতা রয়েছে। সবমিলিয়ে ৬৫০ জনের অধিক সাংবাদিক। অনেক পত্রিকা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে অধিকাংশই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্যভুক্ত হতে পারেনি। তবে ২০২২ সালের ০১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের (বাপী-সুজন) কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ১৩ জনকে নতুন সদস্যর্ভুক্ত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ২৩ জানুয়ারি তাদেরকে অবগত করতে প্রেসক্লাবের প্যাডে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী সুজন স্বাক্ষরিত চিঠি প্রেরণ করেন। এছাড়াও ২২ মার্চ ২০২২ খ্রিঃ প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংগ্রহণ করতেও তাদেরকে ১৫ মার্চ ২০২২ সুজন স্বাক্ষরিত চিঠি দেওয়া হয়। তবে ১০ জনকে বাদ দিয়ে ওই কমিটির নেতৃবৃন্দ ১০০ সদস্যের নামীয় একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ২১ এপ্রিল ২০২২ ভোট গ্রহণের দিন ধার্য্য করেন। তিন সদস্য বিশিষ্ট সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নির্বাচন ২০২২-২০২৩ কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচিত করেন আব্দুল গফুর সরদারকে, সদস্য নির্বাচিত করেন-মোঃ জাকির হোসেন লস্কর শেলী ও খন্দকার আনিসুর রহমানকে। এই হঠকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নিজেদের সম্মান ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ওই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নির্বাচন ২০২২-২০২৩ কমিটির প্রধান কমিশনারকে বিবাদী করে সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন দৈনিক আমার সংবাদের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নাসির উদ্দীনসহ ১০ জন সাংবাদিক। মামলা নং-২০৩/২২। উক্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২২ মার্চ ২০২২ স্বাক্ষরিত ভোটার লিস্ট এবং ০৯ এপ্রিল ২০২২ প্রকাশিত তফসিল অনুসারে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ২০২২-২৩ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করতে আদেশ প্রদান করেন সদর সিনিয়র সহকারী জজ মোঃ নাছিরউদ্দীন ফরাজী। এই আদেশ না মেনেই নির্বাচন বর্হিভূতভাবে কমিটর নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবে একক আধিপত্য বিস্তর করতে থাকে। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ভোটার তালিকায় ওই বাদ দেওয়া ১০ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন পরিচালনা করার আদেশ প্রদান করেন আদালত। বিপরীতে মমতাজ আহমেদ বাপী জজকোর্টে আপীল করেন। ওই আপীল মামলায় এই ১০ জনের পক্ষে রায় হয়। এরপর মমতাজ আহমেদ বাপী মহামান্য হাইকোর্টে একটি পিটিশন দেয়। সেই পিটিশন মোতাবেক এক বছর স্টে হয়। অতঃপর সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়ায় নিয়ম মাফিক তা অকার্যকর হয়ে যায়।
মোঃ মুনসুর রহমান আরও বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা মারফত জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর শনিবার (২৪ আগস্ট ২০২৪ খ্রিঃ) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ৯৬ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে মাত্র ৪১ জন সদস্যের স্বাক্ষরে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শতকরা ৫১ ভাগ সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়া সাধারণ সভা তলবের সুযোগ নেই। এছাড়া ৪১ জন সদস্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, জুলাই অভ্যুত্থানের মুল স্পিরিট প্রত্যক্ষ ভোটে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এডহক কমিটি গঠনের। কিন্তু বিগত সময়ের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী কুচক্রিদের পদের লোভে ২৪ আগস্ট-২৪ তারিখে এক বছর মেয়াদি পূর্ণাঙ্গ ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এনিয়ে সম্মানিত সাধারণ সদস্যদের ব্যাপক ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের দাবিতে কতিপয় সাংবাদিক মহল ৫৬ জন সাধারণ সদস্যের স্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেয়। পিকনিক থেকে ফিরে এসে নির্বাচনের আশ্বাসও দিয়েছিলেন দখলদার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু নির্বাচনের সেই আখাঙ্খাকে পদদলিত করে বেশ কয়েকজন সম্মানিত সদস্যকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দখলদার কমিটি। সাধারণ সদস্যদের সুখ-দু:খ দেখাসহ সাংবাদিকতার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা প্রেসক্লাব সংগঠনের মুল কাজ হলেও তারা এসবের তোয়াক্কা না করে প্রেসক্লাব বিধ্বংসী কর্মকান্ডে মেতে উঠায় প্রেসক্লাবকে রক্ষা ও সদস্যদের সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ১৬ মে ২০২৫ তারিখে কতিপয় সাংবাদিক মহল সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নামে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করে, সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটির সভাপতির কাছ থেকে তারা দায়িত্ব গ্রহণও করেছে। তবে কমিটিকে (কাশেম-আসাদ) ভূয়া বলে দাবি করেন জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। এই কমিটি শনিবার (১৭ মে ২০২৫) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে একটি সভা করেন। ওই সভায় নেতৃবৃন্দ দাবি করেন-পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন আঙ্গিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মমতাজ আহমেদ বাপী, হাবিবুর রহমান হাবিব ও মোহাম্মদ আলী সুজন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লংঘন করে প্রেসক্লাবকে সাড়ে তিন বছর দখলে রেখে জেলাব্যাপী প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেসক্লাবের বিনোদনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে নিজেরা আত্মসাত করেছে। তারা প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের লালিত গণতন্ত্র চর্চাকে হত্যা করেছে। সেই থেকে রক্ষা করতে নতুন করে অত্র ক্লাবে সদস্যপদ গ্রহণ করতে সাংবাদিকদের কাছে দরখস্ত আহবান করেছেন বলে গুঞ্জন চাউর হয়েছে। অপরদিকে কাশেম-আসাদ কমিটির নেতৃবৃন্দও একই ভাবে প্রেসক্লাবে সদস্যপদ গ্রহণ করতে সাংবাদিকদের কাছে দরখস্ত আহবানের পাশাপাশি ফরম বিতরণ করছেন। এতে সাংবাদিকরা উভয় সংকটে, কে যাবেন কোন গ্রুপে তা নিয়ে দোলাচলে..?
মোঃ মুনসুর বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অপশন যুক্ত না করেই প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র একটি সাংবাদিক মহল বানিয়েছে। যারা এই কাজের সাথে যুক্ত ছিলো তাদেরকে ধন্যবাদ। তবে এই গঠনতন্ত্রের ধারা-৪.১ মোতাবেক জানা গেছে, নিম্নে প্রদত্ত যোগ্যতার অধিকারী ব্যক্তিগণ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্যপদ অর্জন করতে পারবেন। ক. সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত প্রকাশিত দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক। খ. সাতক্ষীরা থেকে নিয়মিত প্রকাশিত প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার সর্বোচ্চ ২ (দুই) জন বেতন উল্লেখপূর্বক নিয়োগপত্র প্রাপ্ত সাংবাদিক। গ. দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত প্রকাশিত প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার নিয়োগপ্রাপ্ত ১ (এক) জন সাংবাদিক। ঘ. দৈনিক পত্রিকার নিয়োগপ্রাপ্ত ফটো সাংবাদিক। ঙ. বেতার, টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার নিয়োগপ্রাপ্ত সাংবাদিক। চ. নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে নিয়মিত প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার ১ (এক) জন পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিক। শর্তসমূহঃ ১। যদি সংশিষ্ট পত্রিকার সাতক্ষীরাতে নিয়োগপত্রধারী সাংবাদিক না থাকেন। ২। সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রচার ও বিতরণ ব্যবস্থা থাকতে হবে। ৩। আবেদনকারীকে এক বছরের অধিক সময় সাংবাদিকতা পেশায় থাকতে হবে। ৪। আবেদনকারীকে আবেদনের পূর্ববর্তী প্রতিমাসের ২ টি করে ৬ মাসের মোট ১২ টি সংবাদ যুক্ত করতে হবে। এছাড়াও ধারা-৪.২ মোতাবেক জানা গেছে, সহযোগী সদস্যের জন্য নিম্নবর্ণিত যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে। ক. ধারা ৪.১ এ বর্ণিত যোগ্যতার অধিকারী নন কিন্তু সাতক্ষীরা জেলায় সাংবাদিকতা পেশার সাথে অনিয়মিতভাবে জড়িত পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিক। খ. বিভিন্ন সরকারি, বে-সরকারি, আধাসরকারি এবং সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। গ. পাঁচ বছর বা তার অধিক সময় সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে অবসর গ্রহণ করেছেন এমন সাংবাদিক। উপরিউক্ত দুইটি ধারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কোনো কমিটিই পুরোপুরি অনুসরণ করেনি। অনেকে আংশিক করার চেষ্টা করেছে। এমনকি যারা সদস্য আছেন তাদের অধিকাংশের পৌর এলাকায় সংশ্লিষ্ট পত্রিকার প্রচার ও বিতরণ ব্যবস্থা নেই। অনেকে পত্রিকার সম্পাদকদের আনু. ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা এককালীন দিয়ে পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিক হয়ে অত্রক্লাবের সদস্যভুক্ত হতে চেষ্টাও করেছেন। এদের মধ্য থেকে কেউ হতে পেরেছিল, কেউ পারেনি। এছাড়াও দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার ১ জন ও দৈনিক যুগের বার্তা পত্রিকার ১ জন ফটো সাংবাদিক রয়েছে, তাদেরকে প্রেসক্লাবের কখনো সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কোনো কমিটি। এবং ওই কমিটি নেতৃবৃন্দ কখনো সদস্য হতে ইচ্ছুকদেরকে দরখস্ত আহবানের কোনো সুযোগ প্রদান করেনি। তবে অত্রক্লাবের সদস্যরা সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে, জেলার বাকি সাংবাদিকরা বরাবরই বঞ্চিত। এবং সদস্য সংখ্যা বেশি হলে তাদের উপর কমিটির নেতৃবৃন্দ ছড়ি ঘুরাতে পারবে না, তাদেরকে পদদোলিত করে রেখেছে। উক্ত প্রেসক্লাবকে নিয়ে পূর্বের মতো সাংবাদিকদের মধ্যে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশংকা দেখা যাচ্ছে। যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি। সেমতে এই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সংশোধনপূর্বক আগামীতে কোনো পাল্টাপাল্টি কমিটির নেতৃবৃন্দ যেন প্রেসক্লাবে সদস্য অন্তর্ভুক্তি’র নামে বারংবার সাংবাদিকদের সাথে প্রতারণা ও তাদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা না পারে তার নিশ্চয়তা প্রদান, গঠনতন্ত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি কম শিক্ষিত অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়া, ইতিপূর্বে জেলার স্থানীয় পত্রিকায় যারা পাঁচ বছরের অধিক সাংবাদিকতা করেছেন বা করছেন। তবে এখন করছেন না এমন সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা সনদের ভিক্তিতে সহযোগী সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত এবং পত্রিকা বিলিবন্টনকারীদের জন্যই সাংবাদিকরা আজ সাংবাদিক। তাই উক্ত পত্রিকা বিলিবন্টকারীদের সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নিশ্চয়তা প্রদান। একটি যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রেসক্লাবের কমিটি পাল্টা কমিটির সদস্য ফরম বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা, সরকার নিবন্ধিত প্রত্যেক স্থানীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক কর্তৃক নিয়োগকৃত সাংবাদিকদের মধ্য থেকে কমপক্ষে ১০জন অত্রক্লাবের সদস্যপদের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য সচেতন সাংবাদিক সমাজ নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি প্রেসক্লাব সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা তথ্য অফিসারসহ সরকারের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পরিশেষে সকল হীনমন্যতার ঊর্ধ্বে থেকে এখানকার পেশাদার সংবাদিকরা সবসময় ন্যায়, উন্নয়ন- সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ পরিবেশন, প্রগতির পক্ষে এবং অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মহান পেশার মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে ধারণ করে এগিয়ে যাবেন সেই প্রত্যাশা।
সংবাদ শিরোনাম:
বিজ্ঞাপন দিন
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব কমিটি পাল্টা কমিটির বারংবার সাংবাদিকদের সাথে প্রতারণা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ১১:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
- ২৪৪ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ
























