আজ শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • ২০৬ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা জেলার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে প্রায় ১১টা পর্যন্ত জেলা সদরের খুলনা রোডে অবস্থিত সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন তাণ্ডব চলে। পার্শবর্তী গ্রামের মাগুরা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত শাহিন নামের এক তরুণের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসকসহ ঢাকা থেকে আগত অপর এক চিকিৎসক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা সদরের লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ইছহাক আলীর ধারালো কুড়ালের আঘাতে একই গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে শাহিন গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় শাহিনের স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ বাদে শাহিনের খিচুনি শুরু হলে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিকের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় ঢাকার আইসিডিডিআরবি থেকে আগত ডা. আক্তার মারুফ হাসপাতালে প্রবেশের সময় স্টাফ ভেবে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়।

এদিকে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুরের সময় গোটা হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগে আগত রোগীরা এসময় দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কিছু আসবাবপত্রসহ জরুরি বিভাগের কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, শাহিন নামের রোগীকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। রোগীর স্বজনরা হামলায় জড়িত দাবি করলেও তিনি কারও নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনার ঢাকা থেকে আগত তাদের একজন অতিথি চিকিৎসকের নাক ভেঙে গেছে এবং তাদের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আক্তার মারফু মারাত্বকভাবে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন।

হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল আহমেদ মানিক জানান, তিনি হামলার সময় রোগীকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। সেখান থেকে সদর হাসপাতালে ফিরে জরুরি বিভাগে হামলায় জড়িতদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় ঢাকা থেকে আগত ডা. তানভীর হোসেনকে রক্ষা করতে যেয়ে তিনি নিজে আহত হওয়ারও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেই সময়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ছিলেন না। স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রোগীকে ওয়ার্ডে পাঠানোর পর খিচুনি শুরু হলে তারা জরুরি বিভাগে হামলা করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর

আপডেট সময়: ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

সাতক্ষীরা জেলার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে প্রায় ১১টা পর্যন্ত জেলা সদরের খুলনা রোডে অবস্থিত সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন তাণ্ডব চলে। পার্শবর্তী গ্রামের মাগুরা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত শাহিন নামের এক তরুণের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসকসহ ঢাকা থেকে আগত অপর এক চিকিৎসক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা সদরের লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ইছহাক আলীর ধারালো কুড়ালের আঘাতে একই গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে শাহিন গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় শাহিনের স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ বাদে শাহিনের খিচুনি শুরু হলে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিকের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় ঢাকার আইসিডিডিআরবি থেকে আগত ডা. আক্তার মারুফ হাসপাতালে প্রবেশের সময় স্টাফ ভেবে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়।

এদিকে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুরের সময় গোটা হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি বিভাগে আগত রোগীরা এসময় দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কিছু আসবাবপত্রসহ জরুরি বিভাগের কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহমেদ জানান, শাহিন নামের রোগীকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। রোগীর স্বজনরা হামলায় জড়িত দাবি করলেও তিনি কারও নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনার ঢাকা থেকে আগত তাদের একজন অতিথি চিকিৎসকের নাক ভেঙে গেছে এবং তাদের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আক্তার মারফু মারাত্বকভাবে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে তারা লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন।

হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল আহমেদ মানিক জানান, তিনি হামলার সময় রোগীকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। সেখান থেকে সদর হাসপাতালে ফিরে জরুরি বিভাগে হামলায় জড়িতদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় ঢাকা থেকে আগত ডা. তানভীর হোসেনকে রক্ষা করতে যেয়ে তিনি নিজে আহত হওয়ারও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেই সময়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ছিলেন না। স্বেচ্ছাসেবকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রোগীকে ওয়ার্ডে পাঠানোর পর খিচুনি শুরু হলে তারা জরুরি বিভাগে হামলা করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।