আজ বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

শ্যামনগরে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৩:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি একটি খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আবুর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সোমবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী গ্রামে অবস্থিত ৩০ বিঘা আয়তনের জেলেখালী জলমহাল নামক খালটি দখলে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আড়াইশ যুবক দেশীয় অস্ত্রসহ খালটিতে হানা দেয় এবং লাঠিশোটা নিয়ে জলমহালটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ সময় তারা খালের পানি থেকে জাল ফেলে প্রায় ১২-১৪ মন মাছ শিকার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যাতে অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সুশান্ত সরদার ও আরও একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. ইছহাক আলী জানান, উক্ত জলমহালটি তাহমিনা এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। এখান থেকে অর্জিত আয় এতিম শিক্ষার্থীদের খরচ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হয়।

তিনি আরও বলেন, জলমহালটির মালিকানা নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের মামলা চলমান রয়েছে এবং ২০১৩ সালে উচ্চ আদালত খালের উপর ‘স্থিতিবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম আদালতের নির্দেশ অমান্য করে খালটি জবরদখল করেছেন বলে তার অভিযোগ।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “ফ্যাসিস্টদের দোসররা দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভোগ করে আসছে। জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে আমরা খালটি দখলে নিয়েছি। যদি সবাই আমাকে এই অভিযানে নেতা ভাবে, তাহলে আমি গর্বিত।”

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা মেনেই উভয়পক্ষকে চলতে হবে। দ্বিতীয় কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে সরকারি খাল দখলের অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৩:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি একটি খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আবুর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সোমবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালী গ্রামে অবস্থিত ৩০ বিঘা আয়তনের জেলেখালী জলমহাল নামক খালটি দখলে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আড়াইশ যুবক দেশীয় অস্ত্রসহ খালটিতে হানা দেয় এবং লাঠিশোটা নিয়ে জলমহালটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ সময় তারা খালের পানি থেকে জাল ফেলে প্রায় ১২-১৪ মন মাছ শিকার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যাতে অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সুশান্ত সরদার ও আরও একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. ইছহাক আলী জানান, উক্ত জলমহালটি তাহমিনা এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। এখান থেকে অর্জিত আয় এতিম শিক্ষার্থীদের খরচ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হয়।

তিনি আরও বলেন, জলমহালটির মালিকানা নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের মামলা চলমান রয়েছে এবং ২০১৩ সালে উচ্চ আদালত খালের উপর ‘স্থিতিবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম আদালতের নির্দেশ অমান্য করে খালটি জবরদখল করেছেন বলে তার অভিযোগ।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “ফ্যাসিস্টদের দোসররা দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভোগ করে আসছে। জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে আমরা খালটি দখলে নিয়েছি। যদি সবাই আমাকে এই অভিযানে নেতা ভাবে, তাহলে আমি গর্বিত।”

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা মেনেই উভয়পক্ষকে চলতে হবে। দ্বিতীয় কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।