বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।”
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারত তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে, তবে সেই অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিল—এটি বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন।” তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিষয়ে বিচার হবে। তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সরকার সেভাবেই কাজ করবে।” সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনসহ অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা নেই এবং জনগণও তাদের বিষয়ে বিচার করবে।
আজকের বাণী 





























