ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান এবং সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চলতি বছরের মে মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমাদের পুলিশ সদস্যদেরও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেউ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হুটার ব্যবহার করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে যেখানে হর্ন বাজানোর প্রয়োজন নেই, সেখানেও হর্ন বাজানো হচ্ছে।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অনেক সরকারি দপ্তরের যানবাহনের এখনো নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) নেই এবং সেগুলো ইঞ্জিন নম্বরের ভিত্তিতে চলাচল করছে। পুলিশের কিছু যানবাহনও একইভাবে চলাচল করছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি বা বেসরকারি—যে কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তা ইতোমধ্যে নেওয়াও হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৩৮ হাজার ২৮৪টি মামলা করেছে। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। এ সময় মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া, ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন-সংক্রান্ত ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এসব মামলায় একজনকে কারাদণ্ড এবং অন্যদের মোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫ হাজার ২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫ হাজার ৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজকের বাণী 





















