আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন Logo খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে মোস্তফা সরোয়ার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক Logo আশাশুনিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা Logo আশাশুনিতে বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃত্যু Logo তিন দিন পর ফের কর্মচঞ্চল ভোমরা স্থলবন্দর Logo বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন Logo সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য কারিগরি দক্ষতা মেলা Logo খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধে সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভা Logo সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ আজ Logo সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে গাঁজা-চিংড়ি রেনুসহ ৩০ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১১:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আবারও চালু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে (মাইক্রো সার্জারি) পিত্তথলির পাথর অপারেশন। গত ১৯ এপ্রিল থেকে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি (মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপারেশন) পদ্ধতিতে এই অপারেশন শুরু হয়েছে, যা সাতক্ষীরার দরিদ্র-অসহায় ও সাধারণ রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। আগে পিত্তথলিতে পাথর হলে পেট কেটে অপারেশন করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে মাইক্রো সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছিদ্র করে মেশিনের সাহায্যে নিরাপদ ও কম সময়ে অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে রোগীরা মাত্র একদিন হাসপাতালে অবস্থান করে পরেরদিন বাড়িতে চলে যেতে পারেন। এছাড়া এই পদ্ধতিতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললে চলে। তবে সরকারি হাসপাতাল ব্যাহত বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এই চিকিৎসাটা বেশ ব্যয়বহুল। ফলে পিত্তথলির পাথর অপারেশনে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসার স্থল। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কিছুদিন আগে যোগদানকারী সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম এবং ডা. সুব্রত কুমার মন্ডল সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও মঙ্গলবার এই অপারেশন পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে এই অপারেশন সেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন রোগীরা।

সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম জানান, “সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বর্তমানে সপ্তাহে দু’দিন ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে অপারেশন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।” এখান থেকে সেবা নিয়ে সুস্থ থাকার জন্য তিনি রোগীদেরকে সদর হাসপাতালের সার্জারি বহিঃ বিভাগের ১১৭ ও ১১৮ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুস জানান, বিগত ২০১১ সালে তিনি সদও হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে ডাঃ শরিফুল ইসলাম ও ডাঃ হাসানুজ্জামানকে সাথে নিয়ে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করেন। তার সময় তিনি সাতক্ষীরার বহু মানুষের ফ্রিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি বদলি হয়ে মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পর ডাঃ শরিফুল ইসলাম কিছুদিন এই অপারেশন চালু রেখেছিলেন। পরে ২০১৯ সাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎস্যকের অভাবে এই চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায়। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপারেশন কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এখানে এই চিকিৎসা সেবাটি এতদিন বন্ধ ছিল। এখন হাসপাতাল থেকে এই চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীর কোনো টাকা খরচ হবে না। যে কেউ এখন থেকে সদর হাসপাতালে এসে পিত্তথলির পাথর অপারেশন কার্যক্রমের সেবা নিতে পারবেন।” তবে অবশ্যই তাকে সিরিয়াল মেইনটেইন করতে হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন

সাতক্ষীরা হাসপাতালে সাত বছর পর চালু হলো আধুনিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন

আপডেট সময়: ১১:১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আবারও চালু হয়েছে আধুনিক পদ্ধতিতে (মাইক্রো সার্জারি) পিত্তথলির পাথর অপারেশন। গত ১৯ এপ্রিল থেকে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি (মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপারেশন) পদ্ধতিতে এই অপারেশন শুরু হয়েছে, যা সাতক্ষীরার দরিদ্র-অসহায় ও সাধারণ রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। আগে পিত্তথলিতে পাথর হলে পেট কেটে অপারেশন করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে মাইক্রো সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছিদ্র করে মেশিনের সাহায্যে নিরাপদ ও কম সময়ে অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে রোগীরা মাত্র একদিন হাসপাতালে অবস্থান করে পরেরদিন বাড়িতে চলে যেতে পারেন। এছাড়া এই পদ্ধতিতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললে চলে। তবে সরকারি হাসপাতাল ব্যাহত বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এই চিকিৎসাটা বেশ ব্যয়বহুল। ফলে পিত্তথলির পাথর অপারেশনে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসার স্থল। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কিছুদিন আগে যোগদানকারী সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম এবং ডা. সুব্রত কুমার মন্ডল সপ্তাহে দুই দিন রবিবার ও মঙ্গলবার এই অপারেশন পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে এই অপারেশন সেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন রোগীরা।

সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম জানান, “সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বর্তমানে সপ্তাহে দু’দিন ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে অপারেশন কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।” এখান থেকে সেবা নিয়ে সুস্থ থাকার জন্য তিনি রোগীদেরকে সদর হাসপাতালের সার্জারি বহিঃ বিভাগের ১১৭ ও ১১৮ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুস জানান, বিগত ২০১১ সালে তিনি সদও হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে ডাঃ শরিফুল ইসলাম ও ডাঃ হাসানুজ্জামানকে সাথে নিয়ে ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি পদ্ধতিতে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করেন। তার সময় তিনি সাতক্ষীরার বহু মানুষের ফ্রিতে পিত্তথলির পাথর অপারেশন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি বদলি হয়ে মেডিকেল কলেজে যাওয়ার পর ডাঃ শরিফুল ইসলাম কিছুদিন এই অপারেশন চালু রেখেছিলেন। পরে ২০১৯ সাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎস্যকের অভাবে এই চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায়। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপারেশন কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এখানে এই চিকিৎসা সেবাটি এতদিন বন্ধ ছিল। এখন হাসপাতাল থেকে এই চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীর কোনো টাকা খরচ হবে না। যে কেউ এখন থেকে সদর হাসপাতালে এসে পিত্তথলির পাথর অপারেশন কার্যক্রমের সেবা নিতে পারবেন।” তবে অবশ্যই তাকে সিরিয়াল মেইনটেইন করতে হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।