স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই-অগাস্টের গণ-অভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও একটি অভিযোগে আসাদুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড এবং অ্যাপ্রুভার হওয়ায় আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বার ২০২৫) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করে। রায়টি ছয় ভাগে বিভক্ত। শুরুতে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং রোম স্ট্যাটিউট অনুযায়ী সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির ভিত্তি পড়ে শোনানো হয়। ট্রাইব্যুনাল বলে, আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, গুলি ও আগুনে হত্যা এবং বিভিন্ন স্থানে দমন-পীড়নে তিন আসামির সংশ্লিষ্টতা অপ্রতিরোধ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন- আন্দোলনকারী, আহত প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। বিচার চলাকালে উপস্থাপিত অডিও-ভিডিও, ফোনালাপ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও জব্দ করা গুলিও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে আদালত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহারের ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনার বিবরণও রায়ে উঠে আসে।
আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শোনানো হয়। আদালতে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি ফোনালাপ শোনানো হয়-যার মধ্যে ছিলেন ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত পাঁচটি অভিযোগ হলো: উসকানিমূলক বক্তব্য; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ; রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা; চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা; আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক অবস্থায় বর্তমানে ভারতে রয়েছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে রায় ঘোষণা কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করেছে।
সংবাদ শিরোনাম:
বিজ্ঞাপন দিন
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা-আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ০৬:৫৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- ১১০ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ























