আজ বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo রেলসেবায় প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও ৬৫+ নাগরিকদের জন্য ২৫% ভাড়া ছাড় Logo সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব নিয়োগ Logo আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান এমপি আব্দুল খালেকের Logo আশাশুনিতে গোয়াল ঘরে গরু দুধ আহরণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক গৃহ বধূর মৃত্যু Logo বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় পণ্য জব্দ Logo ইরানে হামলার প্রতিবাদে দেবহাটায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ Logo শ্যামনগরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo ধলবাড়িয়ায় এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশারকে সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল Logo “সংবাদিক দায়িত্বের কথা বললেন অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ | তালা সাংবাদিক ইফতার” Logo লেবাননে স্থল অভিযান চালাবে ইসরায়েল
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

জলাবদ্ধতা নিরসনে শ্যামনগরে আদি যমুনার প্রবাহ পুনরুদ্ধারে বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণের দাবি

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:২৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষির পুনরুজ্জীবন ও সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আদি যমুনা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় জনগণ ও ‘আদি যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চলমান সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক নির্মাণকাজের সময় শ্যামনগর উপজেলা সদরের মহাশশ্মানের পশ্চিমে ও টিএন্ডটি অফিসের পূর্ব পাশে, এবং মিঠা চন্ডিপুর এলাকায় আদি যমুনা নদীর প্রস্থ অনুযায়ী বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বহু বছরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা- ভাগীরথি- যমুনা- ইছামতি নদী ব্যবস্থার নিম্নাংশ হলো আদি যমুনা। একসময় এই নদীর মাধ্যমেই গঙ্গার মিষ্টি পানি সুন্দরবন হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হতো, ফলে অঞ্চলজুড়ে মিষ্টি ও নোনাপানির এক অনন্য ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেশ গড়ে উঠেছিল।
কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ এবং ১৯৮০-এর দশকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক নির্মাণের সময় নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে নদীটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে, প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস হয় এবং ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
পরে ভূমিদস্যুদের দখল, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘ আইনি জটিলতায় নদীটি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে নদী হিসেবে আদি যমুনার স্বীকৃতি ফিরে আসে এবং দখলমুক্ত করে আংশিক খনন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে কয়েকটি স্থানে ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে আংশিক প্রবাহ ফিরে এলেও সম্পূর্ণ সংযোগ এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মাদার নদী ও ইছামতির মিষ্টি পানির প্রবাহ আদি যমুনায় যুক্ত হওয়ার পথে দুটি প্রধান বাধা রয়ে গেছে—
১. শ্যামনগর উপজেলা সদরের মহাশশ্মানের পশ্চিমে ও টিএন্ডটি অফিসের পূর্বে নির্মিত সড়ক, এবং
২. মিঠা চন্ডিপুর এলাকার ছোট কার্লভাট।
তাদের দাবি, এই দুটি স্থানে নদীর প্রস্ত অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ করলে ইছামতির মিষ্টি পানি মাদার নদী হয়ে সুন্দরবনে পৌঁছাতে পারবে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকবে।
‘আদি যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’ নিম্নলিখিত চারটি দাবি উত্থাপন করেছে—
১. শ্যামনগর উপজেলা সদরের মহাশশ্মানের পশ্চিমে ও টিএন্ডটি অফিসের পূর্ব পাশে নদীর প্রস্ত অনুযায়ী বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ।
২. মিঠা চন্ডিপুর এলাকার ছোট কার্লভাট অপসারণ করে নদীর প্রস্ত অনুযায়ী নতুন ব্রিজ নির্মাণ।
৩. শ্যামনগরের চিংড়ীখালী মাদার নদী সংযোগস্থলের সুইস গেট অপসারণ করে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণ।
৪. কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সুইস গেট পরিবর্তন করে ব্রিজ নির্মাণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইছামতির মিষ্টি পানি আদি যমুনা হয়ে সাগরে প্রবাহিত হলে নোনাপানির অনুপ্রবেশ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ও জীবিকা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

রেলসেবায় প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও ৬৫+ নাগরিকদের জন্য ২৫% ভাড়া ছাড়

জলাবদ্ধতা নিরসনে শ্যামনগরে আদি যমুনার প্রবাহ পুনরুদ্ধারে বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণের দাবি

আপডেট সময়: ০৯:২৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষির পুনরুজ্জীবন ও সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আদি যমুনা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় জনগণ ও ‘আদি যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চলমান সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক নির্মাণকাজের সময় শ্যামনগর উপজেলা সদরের মহাশশ্মানের পশ্চিমে ও টিএন্ডটি অফিসের পূর্ব পাশে, এবং মিঠা চন্ডিপুর এলাকায় আদি যমুনা নদীর প্রস্থ অনুযায়ী বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বহু বছরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা- ভাগীরথি- যমুনা- ইছামতি নদী ব্যবস্থার নিম্নাংশ হলো আদি যমুনা। একসময় এই নদীর মাধ্যমেই গঙ্গার মিষ্টি পানি সুন্দরবন হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হতো, ফলে অঞ্চলজুড়ে মিষ্টি ও নোনাপানির এক অনন্য ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেশ গড়ে উঠেছিল।
কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ এবং ১৯৮০-এর দশকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক নির্মাণের সময় নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে নদীটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে পড়ে, প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস হয় এবং ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
পরে ভূমিদস্যুদের দখল, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘ আইনি জটিলতায় নদীটি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে নদী হিসেবে আদি যমুনার স্বীকৃতি ফিরে আসে এবং দখলমুক্ত করে আংশিক খনন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে কয়েকটি স্থানে ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে আংশিক প্রবাহ ফিরে এলেও সম্পূর্ণ সংযোগ এখনো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মাদার নদী ও ইছামতির মিষ্টি পানির প্রবাহ আদি যমুনায় যুক্ত হওয়ার পথে দুটি প্রধান বাধা রয়ে গেছে—
১. শ্যামনগর উপজেলা সদরের মহাশশ্মানের পশ্চিমে ও টিএন্ডটি অফিসের পূর্বে নির্মিত সড়ক, এবং
২. মিঠা চন্ডিপুর এলাকার ছোট কার্লভাট।
তাদের দাবি, এই দুটি স্থানে নদীর প্রস্ত অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ করলে ইছামতির মিষ্টি পানি মাদার নদী হয়ে সুন্দরবনে পৌঁছাতে পারবে। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকবে।
‘আদি যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’ নিম্নলিখিত চারটি দাবি উত্থাপন করেছে—
১. শ্যামনগর উপজেলা সদরের মহাশশ্মানের পশ্চিমে ও টিএন্ডটি অফিসের পূর্ব পাশে নদীর প্রস্ত অনুযায়ী বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ।
২. মিঠা চন্ডিপুর এলাকার ছোট কার্লভাট অপসারণ করে নদীর প্রস্ত অনুযায়ী নতুন ব্রিজ নির্মাণ।
৩. শ্যামনগরের চিংড়ীখালী মাদার নদী সংযোগস্থলের সুইস গেট অপসারণ করে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ নির্মাণ।
৪. কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজার সংলগ্ন সুইস গেট পরিবর্তন করে ব্রিজ নির্মাণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইছামতির মিষ্টি পানি আদি যমুনা হয়ে সাগরে প্রবাহিত হলে নোনাপানির অনুপ্রবেশ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি ও জীবিকা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।