আজ মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের উদ্বোধন Logo সাতক্ষীরায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, ৪৫ জন ছানি রোগী অপারেশনের জন্য নির্বাচিত Logo সাতক্ষীরায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত Logo সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ২৯ এপ্রিল Logo খুলনাসহ চার বিভাগে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত Logo আশাশুনিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজাদ ফারুকের মৃত্যু Logo সাতক্ষীরায় পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক ও বাইতুলমাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত Logo ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন ঢালাই রাস্তার হওয়ায় স্বস্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা Logo তৃণমূল ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে: জেলা প্রশাসক Logo কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ফেরার পথে শ্যামনগরের লিটু আটক
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

কালিগঞ্জে ‘ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজ’ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুই ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ আলু বিনষ্টের অভিযোগ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১১:০৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

আবু হাসান, কালিগঞ্জ ব্যুরো: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখে চরম বিপাকে পড়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাহাবুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী। কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়সারা ভূমিকায় নষ্ট হয়ে গেছে ৩৮ লক্ষাধিক টাকার আলু। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ২৭ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

লিখিত অভিযোগে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চাঁচাই গ্রামের মরহুম ইনতাজ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২) ও হোগলা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মাহাবুর রহমান (৪৮) জানান, উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী মিস্ত্রিপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ভাই ভাই কোল্ডস্টোর রয়েছে। সেখানে বীজ ও খাওয়ার আলু রাখার জন্য দেখতে গেলে ভাই ভাই কোল্ড স্টোরেজের মালিক দুদলী গ্রামের কাজী হাফিজুর রহমানের ছেলে কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সরল বিশ্বাসে ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে তারা ৬৭০ বস্তা বীজ এবং ১ হাজার বস্তা (প্রতি বস্তায় রক্ষিত আলুর ওজন ৬২ কেজি) খাওয়ার আলু সংরক্ষণের জন্য দেন যার আনুমানিক মূল্য ৪১ লক্ষ ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। অভিযোগে ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মাঝে মধ্যে তারা ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে আলু দেখার জন্য গেলে মালিক কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ তাদেরকে আলু না দেখতে দিয়ে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বের করে দিতেন। একপর্যায়ে বীজ ও খাওয়ার আলুর প্রয়োজন হওয়ায় কোল্ডস্টোরে যেয়ে তাদের রাখা আলুর বস্তা ভিজা এবং প্রতিটি বস্তায় আলুর অঙ্কুর বের হওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় আলুর বস্তার অঙ্কুর বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন। তাৎক্ষণিক ওই কোল্ডস্টোরেজে রক্ষিত ১ হাজার ৬৭০ বস্তা আলুর মধ্যে ১২০ বস্তা আলু করে নিয়ে সেগুলো খাওয়ার ও বিক্রির অনুপযোগী বলে নিশ্চিত হন তারা। কোল্ডস্টোরেজে নিয়ম অনুযায়ী আলু না রেখে ইচ্ছেমতো সংরক্ষণ করায় তাদের প্রায় ৩৮ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকার আলু নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজের মালিক কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাহাবুর রহমানকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজের মালিক কাজী শাহীন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আলু রেখেছিল ইতিমধ্যে তারা আলু নিয়ে গেছে। জাহাঙ্গীর ও মাহাবুরও আলু নিয়ে গেছে বলে জানালেও ১ হাজার ৬৭০ বস্তার মধ্যে তারা কত বস্তা আলু নিয়ে গেছে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেন নি। হুমকি-ধামকি প্রদানের বিষয়টিও অস্বীকার করেন কাজী শাহীন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের উদ্বোধন

কালিগঞ্জে ‘ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজ’ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুই ব্যবসায়ীর বিপুল পরিমাণ আলু বিনষ্টের অভিযোগ

আপডেট সময়: ১১:০৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

আবু হাসান, কালিগঞ্জ ব্যুরো: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখে চরম বিপাকে পড়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাহাবুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী। কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়সারা ভূমিকায় নষ্ট হয়ে গেছে ৩৮ লক্ষাধিক টাকার আলু। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর গত ২৭ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

লিখিত অভিযোগে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চাঁচাই গ্রামের মরহুম ইনতাজ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২) ও হোগলা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মাহাবুর রহমান (৪৮) জানান, উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী মিস্ত্রিপাড়া মসজিদ সংলগ্ন ভাই ভাই কোল্ডস্টোর রয়েছে। সেখানে বীজ ও খাওয়ার আলু রাখার জন্য দেখতে গেলে ভাই ভাই কোল্ড স্টোরেজের মালিক দুদলী গ্রামের কাজী হাফিজুর রহমানের ছেলে কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সরল বিশ্বাসে ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে তারা ৬৭০ বস্তা বীজ এবং ১ হাজার বস্তা (প্রতি বস্তায় রক্ষিত আলুর ওজন ৬২ কেজি) খাওয়ার আলু সংরক্ষণের জন্য দেন যার আনুমানিক মূল্য ৪১ লক্ষ ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। অভিযোগে ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মাঝে মধ্যে তারা ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজে আলু দেখার জন্য গেলে মালিক কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ তাদেরকে আলু না দেখতে দিয়ে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বের করে দিতেন। একপর্যায়ে বীজ ও খাওয়ার আলুর প্রয়োজন হওয়ায় কোল্ডস্টোরে যেয়ে তাদের রাখা আলুর বস্তা ভিজা এবং প্রতিটি বস্তায় আলুর অঙ্কুর বের হওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় আলুর বস্তার অঙ্কুর বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন। তাৎক্ষণিক ওই কোল্ডস্টোরেজে রক্ষিত ১ হাজার ৬৭০ বস্তা আলুর মধ্যে ১২০ বস্তা আলু করে নিয়ে সেগুলো খাওয়ার ও বিক্রির অনুপযোগী বলে নিশ্চিত হন তারা। কোল্ডস্টোরেজে নিয়ম অনুযায়ী আলু না রেখে ইচ্ছেমতো সংরক্ষণ করায় তাদের প্রায় ৩৮ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকার আলু নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজের মালিক কাজী শাহীন ও কাজী মুরাদ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাহাবুর রহমানকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজের মালিক কাজী শাহীন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। ভাই ভাই কোল্ডস্টোরেজের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আলু রেখেছিল ইতিমধ্যে তারা আলু নিয়ে গেছে। জাহাঙ্গীর ও মাহাবুরও আলু নিয়ে গেছে বলে জানালেও ১ হাজার ৬৭০ বস্তার মধ্যে তারা কত বস্তা আলু নিয়ে গেছে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেন নি। হুমকি-ধামকি প্রদানের বিষয়টিও অস্বীকার করেন কাজী শাহীন।