সাতক্ষীরা’র ধুলিহরে বিধবা রমেচা খাতুনের জমি দখলে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। ইতিমধ্যে তফসিল সম্পত্তিতে ওই ভূমিদস্যুরা দখল করে বাড়ি ঘর নির্মান করেছে। বিভিন্ন দরজায় ঘুরে ঘুরে কোন প্রতিকার পায়নি অসহায় রমেচা খাতুন। এমনকি বিধবা রমেচা খাতুনের সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। ১০৪ নম্বর ধুলিয়া মৌজায় তপশিল সম্পত্তিতে মৃত বদনের পুত্র লিয়াকত আলি এবং শহিদুল ইসলামের পুত্র রানা দখল করে জোর করে ঘর তৈরি করেছে এবং বহাল ছবিতে আছে। অসহায় বিধবা মহিলার রমেচা এখন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে বিচার পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। অসহায় রামেসা খাতুন এই তফসিল জমিটি শংকর কুমার সরকার নামক এক হিন্দু ভদ্রলোকের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন যার দলিল নম্বর এস এ ৯৮৪০, হাল দলিল ৯৮৫৯। গভীর অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে এলাকার মেম্বার সহ স্বৈরাচারী সরকারের দোসরা ভূমিধস্য রানা ও লিয়াকাত এর নিকট থেকে উৎকোচ নিয়ে হাত মিলিয়ে বিধবা মহিলা রমেচা খাতুন এর সম্পত্তি জোর করে দখল করে নিয়েছে। যার মৌজা ধুলহর,জেল নম্বর ১০৪, এসে খতিয়ান নম্বর ৪০৭৯, যার দাগ নম্বর আর ১০৫৯৪। ভূমিদস্যু রানা কারেন্ট মিস্ত্রি এবং লিয়াকাত ভ্যানচালক। এলাকার কিছু প্রতারকরা এই দুই ভূমিদস্যের নিকট থেকে উৎকোচ নিয়ে জমি দখলের সহযোগিতা করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। তবে জমি দখলের সাথে নায়েব রফিকুল ইসলামের কিছু স্বার্থ জড়িত আছে বলে সচেতন মহল এই প্রতিবেদককে জানায়। এ বিষয় ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তৎকালীন সময় দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নায়েব রফিকুল ইসলামের নিকট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এক বছর আগে ধুলিয়ায় ভূমি অফিসে চাকরি করতাম। আমরা সরকারি সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করি। কারো সম্পত্তি দখল করি না। এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। তবে এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিজ্ঞ লোক বলেন, ভূমিদস্যু রানা এই তফসিল সম্পত্তিতে ঘর তৈরির আগে বিধবা মহিলা রমেছা খাতুন এর নিকট থেকে ০২ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে নিতে চেয়েছিল। বিধবা রমেছা জমি বিক্রি না করায় বিগত সরকারের আমলে, সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহার সানাপাড়া এলাকার তৃণমূল পর্যায়ের প্রতারকদের দিয়ে ঘর দখল করে নেয় খোদাবান রানা ও লিয়াকাত। খোদা বান শব্দের অর্থ হল, যখন যে দল ক্ষমতায় যায় সেই দলের ছাত্র ছায়ায় থেকে জমি দখল সহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এই চক্রটি। ভূমিদস্যু রানা ও লিয়াকাত এলাকায় বলে বেড়ায় তারা নাকি জামাত করে। আবার কখনো বলে বেড়ায় তারা নাকি বিএনপি করে। আর জমি দখল করেছিল বিগত সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের হাইব্রিড নেতাদের মাধ্যমে। সত্য কথা বলতে কি, আওয়ামী আমলে তাদের দাপট ছিল। সে কারণে বিধবার কোন কথা না শুনে তার ক্রয়কৃত তফসিল সম্পত্তি জোর করে দখল করে সেখানে টিন দিয়ে ঘর বেঁধে বহাল তবিয়াতে আছে। এ বিষয় বিধবা রামেছা খাতুন বলেন, আমার শেষ ভরসা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মহোদয়। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট আমার করায়কৃত সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য সহৃদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ভূমিদস্যু রানা ও লিয়াকাত কোন বুনিয়াদে আমার জমি দখল করেছে? ওরা যদি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমি আমার জমি বলে আর দাবি করবো না। এ বিষয় ভূমিদস্যু রানা ও লিয়া খাতুনের নিকট জমির জবর দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এক নম্বর খাস খতিয়ানের সম্পত্তি বলে জোর জোর করে দখল করে নিয়েছি। আমাদের কোন কাগজপত্র নেই। তবে জমিটি আমরা ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করছি। এ বিষয় বিগত সরকারের আমলে মেম্বার আনিসুর রহমানের কাছে জানার জন্য ফোন করলে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি জানতে পেরে ফোনটি কেটে দেন। তবে ধুলিহর নায়েব অফিসের আশেপাশে ঘোরে এমন আশীর্বাদপুষ্ট কিছু দালাল রয়েছে যারা তৃতীয় পর্বে ভূমিদস্যু রানা ও লিয়াকাতের নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় বানিয়ে দিয়েছে ভূমিহীন সনদ। রানা ও লিয়াকাত হল ভূমি দখলকারী ভূমিহীন। এরা বর্তমান দালালের মাধ্যমে এসিল্যান্ড সাতক্ষীরা সদর অফিস থেকে ওই দখলকৃত জমির এক সোনা বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেখানে সম্প্রতি আবেদনপত্র জমাও দিয়েছে। বিধবা মহিলা রমেছা খাতুন এই দুই ভূমিদস্যু রানা ও লিয়াকত কে উচ্ছেদ করে তার জমি ফিরে পাওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ শিরোনাম:
বিজ্ঞাপন দিন
সাতক্ষীরায় বিধবা রমেচার জমি দখলের অভিযোগ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
-
রিপোর্টার - আপডেট সময়: ১১:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
- ১১৬ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস:
জনপ্রিয় সংবাদ
























