কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদের বাড়িতে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ভাঙ্চুর করে জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সংঘটিত এ ঘটনায় ৮ জন নামীয় আসামি এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। হামলার ভিডিও ফুটেজ ভুক্তভোগীর হাতে রয়েছে এবং তা পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ (সাবেক সার্জেন্ট, ওআইসি ইঞ্জিনিয়ার রেকর্ডস,ইসি এসএমই) জানান, ২০১৫ সালে স্ট্রোকজনিত কারণে বাকহীন ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন তিনি।
তার গোবিন্দপুর মৌজার এসএ খতিয়ান ৪৬, বর্তমান জরিপের আরএসএস খতিয়ান ৬২৯, ৬২৮, ১৭৪, সাবেক দাগ ৯৪০, ৯৭০, হাল দাগ ১৩১৪ (১৫ একরের মধ্যে ৬ একর), ১৩১৭ (২৭ একর), ১৩১৮ (.১০ একরের মধ্যে ০.৩৩০ একর) মোট জমির পরিমাণ- ৩৬.৩০ একর।
জমি সংক্রান্ত বিরোধে ২০১৪ সালে দায়ের করা দেওয়ানি আদালতের পাটিশন মামলা নং-৩৬২/২১-এ তিনি ২০২৩ সালের ৪ জুন প্রাথমিক ডিগ্রি এবং ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চূড়ান্ত ডিগ্রি অর্জন করেন। আদালতের নির্দেশে জরিপ শেষে লাল পতাকা টানিয়ে তার দখলে জমি হস্তান্তর করা হয়। তিনি সেই জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন।
কিন্তু সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ উপজেলার গোবিন্দপুরের মৃত শহর আলী তরফদারের ছেলে মোবারক তরফদার, মহিউদ্দীন তরফদার, মোবারক হোসেন তরফদারের ছেলে আনিছুর রহমান তরফদার, আসিফ তরফদার, আরিফিন তরফদার, মহিউদ্দীন তরফদারের ছেলে মনিরুল তরফদার, ৭। মোঃ নূরল তরফদার, বাবুর আলী তরফদারের ছেলে ডাম্পার চালক মঈনূর তরফদার এবং তাদের সহযোগী ১৫-২০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ড্যাম্পার ব্যবহার করে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ভুক্তভোগীর স্থাপনা ভাঙচুর করে প্রায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,“আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের সেবা করেছি। অথচ অবসরে এসে আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ হামলা শুধু আমার ওপর নয়, ন্যায়বিচারের ওপরও নগ্ন আঘাত।”
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান “এজাহার অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। হামলার ভিডিও ফুটেজও পুলিশের কাছে এসেছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে সেনা সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ ও তার পরিবারকে এখনও প্রতিপক্ষরা নিয়মিত হুমকি-ধামকি অব্যহত রেখেছে। ফলে ওই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।
তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
রিপোর্টার 























