নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বহস্তে লেখা পদত্যাগপত্র ছেঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র এক শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন এ তদন্ত পরিচালনা করেন।
অভিযোগকারী বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা নাজমুল লায়লা জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং স্বহস্তে লেখা পদত্যাগপত্র সকলের সামনে পড়ে শোনান। পরে তিনি পদত্যাগপত্রটি তার হাতে দিয়ে বেরিয়ে যান। এসময় শিক্ষিকা নাজমা সুলতানা এবং শিক্ষক কবির আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক মিলে তার ওপর হামলা চালান। নাজমা সুলতানা তাকে পিছন দিক থেকে চেপে ধরেন এবং কবির আহমেদ জোরপূর্বক হাতে থাকা পদত্যাগপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এতে তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি শারীরিকভাবে নিগৃহীত হন।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, উপস্থিত সাক্ষী ও শিক্ষকদের বক্তব্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বর্তমানে ঢাকায় এবং অপরজন অসুস্থ থাকায় তাদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জেলা অফিসে পাঠানো হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক গাজী বলেন, “ঘটনার অভিযোগে তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে শিক্ষকদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা অফিসে যাবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, সভাপতির পদত্যাগপত্র প্রধান শিক্ষকের হাতে না দিয়ে সহকারী শিক্ষিকার হাতে দেওয়াটা পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের অভিযোগ, নাজমা সুলতানা ও কবির আহমেদ নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তাজকিন আহমেদ চিশতির মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার 























