আজ সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ২৯ এপ্রিল Logo খুলনাসহ চার বিভাগে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত Logo আশাশুনিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজাদ ফারুকের মৃত্যু Logo সাতক্ষীরায় পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক ও বাইতুলমাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত Logo ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন ঢালাই রাস্তার হওয়ায় স্বস্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা Logo তৃণমূল ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে: জেলা প্রশাসক Logo কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ফেরার পথে শ্যামনগরের লিটু আটক Logo পাটকেলঘাটায় ২০০ কেজি আম আটক করে ধ্বংশ Logo প্রতাপনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo আশাশুনিতে ভাঙন কবলিত বাঁধ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরায় ইটের গুঁড়া দিয়ে সার তৈরি, কারখানা সিলগালা

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ১২:০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২২৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বিসিক শিল্প নগরীতে ইটের গুঁড়া দিয়ে ভেজাল সার তৈরির অভিযোগে একটি গুদামঘর সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের ডিবির যৌথ অভিযানে এ ঘটনা ধরা পড়ে। এসময় ডিবি পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি টেরপেয়ে কারখানার মালিক সাইফুল ইসলাম পালিয়ে যায়। পরে কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান প্লান গ্রথ রেগুলেটার হরমন পিজিআর, ভেজাল মাছের খাবার, ওফসন,প্লান কটন, ফিস জেল, জিও এসটার, সালফার, ওজন বৃদ্বির জন্য বালি, টিএসপিতে মিশানো বিপুল পরিমান ইটেরগুড়াসহ বিভিন্ন ভেজাল ক্যামিক্যালসহ অনান্য কৃষি ও মাছের জন্য উৎপাদিত ভেজালযুক্ত কিটনাশক এবং রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করে কারখানাটি তালা দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এসময় কারখানার ম্যানেজার কামাল হোসেন কারখানর কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তার স্বীকারোক্তিতে বাংলাদেশ কৃষি রসায়ন নামক ওই সার কারখানার মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দকৃত বিপুল পরিমান ওই ভেজাল সার, কিটনাশক ও মাছের ঘেরে ব্যবহৃত তৈরী কৃত ভেজাল পন্য সামগ্রী বিসিক শিল্প নগরির উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাশের জিম্মায় জব্দ রাখা হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, সাইনবোর্ডবিহীন কারখানায় দুই নারী শ্রমিক বিভিন্ন কৃষি ও মৎস্য পণ্যের প্যাকেটজাতকরণ করছিলেন। সেখানে ইটের গুঁড়া সার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ইন্দোরানী মণ্ডল বলেন, “আমরা বাইরে থেকে মাল এনে শুধু প্যাকেট করি। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করি। দিনে ৪০০ টাকা মজুরি পাই। ইটের গুঁড়া কেন আনা হয়েছে তা আমরা জানি না। মানুষ সন্দেহ করছে বলে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাজ শুধু প্যাকেট করা, বেতন পেলেই আমরা খুশি।”

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, “এখানে আমরা ইটের গুঁড়া সার হিসেবে প্যাকেটজাতের প্রমাণ পেয়েছি। কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্রও নেই। মালিককে ডাকা হলেও তিনি আসেননি। কৃষকদের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা মারাত্মক অপরাধ।”

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা ভেজালের প্রমাণ পাই। তাই সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ অনুযায়ী মালিককে জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ মালামাল বিসিক কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।”

তবে এই ঘটনায় বিসিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিল্প নগরীর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে এমন ভেজাল কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয় বিসিক কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন অনেকে। নগরীর ভেতরে অবৈধ কারখানা পরিচালনার বিষয়টি তাদের নজরে না আসা কতটা গ্রহণযোগ্য—এ নিয়েও জনমনে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন বলছে, কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে—সার কেনার সময় অবশ্যই প্যাকেট ও উৎস যাচাই করে নিতে হবে, যাতে ভেজাল সার কিনে ক্ষতির মুখে না পড়েন।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ২৯ এপ্রিল

সাতক্ষীরায় ইটের গুঁড়া দিয়ে সার তৈরি, কারখানা সিলগালা

আপডেট সময়: ১২:০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বিসিক শিল্প নগরীতে ইটের গুঁড়া দিয়ে ভেজাল সার তৈরির অভিযোগে একটি গুদামঘর সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের ডিবির যৌথ অভিযানে এ ঘটনা ধরা পড়ে। এসময় ডিবি পুলিশ ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি টেরপেয়ে কারখানার মালিক সাইফুল ইসলাম পালিয়ে যায়। পরে কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান প্লান গ্রথ রেগুলেটার হরমন পিজিআর, ভেজাল মাছের খাবার, ওফসন,প্লান কটন, ফিস জেল, জিও এসটার, সালফার, ওজন বৃদ্বির জন্য বালি, টিএসপিতে মিশানো বিপুল পরিমান ইটেরগুড়াসহ বিভিন্ন ভেজাল ক্যামিক্যালসহ অনান্য কৃষি ও মাছের জন্য উৎপাদিত ভেজালযুক্ত কিটনাশক এবং রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করে কারখানাটি তালা দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এসময় কারখানার ম্যানেজার কামাল হোসেন কারখানর কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তার স্বীকারোক্তিতে বাংলাদেশ কৃষি রসায়ন নামক ওই সার কারখানার মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দকৃত বিপুল পরিমান ওই ভেজাল সার, কিটনাশক ও মাছের ঘেরে ব্যবহৃত তৈরী কৃত ভেজাল পন্য সামগ্রী বিসিক শিল্প নগরির উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাশের জিম্মায় জব্দ রাখা হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, সাইনবোর্ডবিহীন কারখানায় দুই নারী শ্রমিক বিভিন্ন কৃষি ও মৎস্য পণ্যের প্যাকেটজাতকরণ করছিলেন। সেখানে ইটের গুঁড়া সার তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ইন্দোরানী মণ্ডল বলেন, “আমরা বাইরে থেকে মাল এনে শুধু প্যাকেট করি। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করি। দিনে ৪০০ টাকা মজুরি পাই। ইটের গুঁড়া কেন আনা হয়েছে তা আমরা জানি না। মানুষ সন্দেহ করছে বলে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাজ শুধু প্যাকেট করা, বেতন পেলেই আমরা খুশি।”

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, “এখানে আমরা ইটের গুঁড়া সার হিসেবে প্যাকেটজাতের প্রমাণ পেয়েছি। কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্রও নেই। মালিককে ডাকা হলেও তিনি আসেননি। কৃষকদের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা মারাত্মক অপরাধ।”

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা ভেজালের প্রমাণ পাই। তাই সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ অনুযায়ী মালিককে জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ মালামাল বিসিক কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।”

তবে এই ঘটনায় বিসিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিল্প নগরীর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে এমন ভেজাল কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয় বিসিক কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন অনেকে। নগরীর ভেতরে অবৈধ কারখানা পরিচালনার বিষয়টি তাদের নজরে না আসা কতটা গ্রহণযোগ্য—এ নিয়েও জনমনে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন বলছে, কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে—সার কেনার সময় অবশ্যই প্যাকেট ও উৎস যাচাই করে নিতে হবে, যাতে ভেজাল সার কিনে ক্ষতির মুখে না পড়েন।