আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: তালা থেকে পাইকগাছা হয়ে কয়রা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প তিন দফায় সময় বাড়ালেও এখনো অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়মতো শেষ হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁক সোজা করার কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্তকরণে অগ্রগতি মাত্র ৪০ শতাংশ। অনেক জায়গায় কাজের অগ্রগতি ১০ শতাংশও নয়। ফলে যান চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে দুর্ভোগ। ধুলাবালিতে পথচারীরা নাজেহাল হচ্ছেন, বৃষ্টির সময় কাদা পানিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহন আরও দুরূহ হয়ে পড়েছে।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে একনেকে অনুমোদিত ‘তালা-কয়রা ভায়া পাইকগাছা সড়ক যথাযথ মানে উন্নতি করণ প্রকল্প’-এর কাজ পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যয়ও বেড়েছে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা।
খুলনা সওজ সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি বাঁক সোজা করা প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। এতে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৭১ কোটি টাকার বেশি। মামলা মোকদ্দমা, সরকার পতনের সময় কাজ বন্ধ থাকা ও শ্রমিক সংকটের কারণে অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় মাইক্রো ড্রাইভার মনজুরুল ইসলাম বলেন, “আগে দেড় ঘণ্টায় কয়রা পৌঁছানো যেত, এখন লাগে চার ঘণ্টা। খরচ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভাড়াও দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে।” ভ্যানচালক হাসেম আলী সর্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটা রাস্তা করতে তিন বছর হয়ে গেলো। ধুলোবালি আর কাদা পানিতে আমাদের নাকানি-চুবানি খেতে হচ্ছে।”
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাঁক সোজা ও প্রশস্তকরণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।” তবে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মতে, ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।
রিপোর্টার 























