আজ সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

তিন মাস পর উন্মুক্ত সুন্দরবন, দস্যু আতঙ্ক-ঋণের চাপে জেলেদের আনন্দ ম্লান

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৭:৪৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে উন্মুক্ত হলো সুন্দরবন। দেশের এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী বনভূমিতে জেলেরা মাছ ধরতে আর পর্যটকরা ঘুরতে প্রবেশের সুযোগ পেলেও দস্যু আতঙ্ক আর ঋণের বোঝা তাদের আনন্দকে ম্লান করেছে। েগত সপ্তাহেই মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন শ্যামনগরের দাড়গাং খাল এলাকা থেকে অপহৃত সাত জেলে। বিকাশের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধের পর তারা ছাড়া পান। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলেরা হলেন—রমজাননগরের ইব্রাহিম, পারশেখালির আব্দুল হামিদ, টেংরাখালির সুজিত মুন্ডা, কালিনচির রকিবুল ইসলাম, কেউবাচলির আব্দুস সাত্তারসহ আরও দুজন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অনুনয়ের পর ৩৫ হাজার টাকায় দস্যুরা রাজি হয়।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের মুখে স্বস্তি নেই। তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় অনেকেই ঋণে জর্জরিত। আবারও মাছ ধরা ও কাঁকড়া আহরণে নামলেও প্রথমেই তাদের ঋণ শোধের চাপ সামলাতে হচ্ছে।

বুড়িগোয়ালিনীর ট্রলার মালিক নূর ইসলাম বলেন, “তিন মাস ট্রলার পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামতের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যা আয় করবো, আগে ঋণ শোধ করতে হবে।”

দাতিনখালির জেলে জাহাঙ্গীর সানা জানান, “গত তিন মাস সংসার চালাতে সুদে টাকা ধার করতে হয়েছে। এখন মাছ ধরলেও সেই ধার শোধের চিন্তা আগে।”

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সাধারণ জেলেদের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ ধরেন, হরিণ শিকার করেন। এসব বনবিভাগ দেখেও ব্যবস্থা নেয় না।

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। পশ্চিম বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, “আজ থেকে অনুমতি নিয়ে জেলে ও পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ প্রস্তুত।”

দস্যু আতঙ্ক ও ঋণের চাপে জর্জরিত উপকূলের মানুষগুলো এখন সুন্দরবনের দিকে তাকিয়ে আছেন জীবিকার আশায়।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন মাস পর উন্মুক্ত সুন্দরবন, দস্যু আতঙ্ক-ঋণের চাপে জেলেদের আনন্দ ম্লান

আপডেট সময়: ০৭:৪৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে উন্মুক্ত হলো সুন্দরবন। দেশের এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী বনভূমিতে জেলেরা মাছ ধরতে আর পর্যটকরা ঘুরতে প্রবেশের সুযোগ পেলেও দস্যু আতঙ্ক আর ঋণের বোঝা তাদের আনন্দকে ম্লান করেছে। েগত সপ্তাহেই মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন শ্যামনগরের দাড়গাং খাল এলাকা থেকে অপহৃত সাত জেলে। বিকাশের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধের পর তারা ছাড়া পান। মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া জেলেরা হলেন—রমজাননগরের ইব্রাহিম, পারশেখালির আব্দুল হামিদ, টেংরাখালির সুজিত মুন্ডা, কালিনচির রকিবুল ইসলাম, কেউবাচলির আব্দুস সাত্তারসহ আরও দুজন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও অনুনয়ের পর ৩৫ হাজার টাকায় দস্যুরা রাজি হয়।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও জেলেদের মুখে স্বস্তি নেই। তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় অনেকেই ঋণে জর্জরিত। আবারও মাছ ধরা ও কাঁকড়া আহরণে নামলেও প্রথমেই তাদের ঋণ শোধের চাপ সামলাতে হচ্ছে।

বুড়িগোয়ালিনীর ট্রলার মালিক নূর ইসলাম বলেন, “তিন মাস ট্রলার পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামতের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন যা আয় করবো, আগে ঋণ শোধ করতে হবে।”

দাতিনখালির জেলে জাহাঙ্গীর সানা জানান, “গত তিন মাস সংসার চালাতে সুদে টাকা ধার করতে হয়েছে। এখন মাছ ধরলেও সেই ধার শোধের চিন্তা আগে।”

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সাধারণ জেলেদের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ ধরেন, হরিণ শিকার করেন। এসব বনবিভাগ দেখেও ব্যবস্থা নেয় না।

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। পশ্চিম বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, “আজ থেকে অনুমতি নিয়ে জেলে ও পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ প্রস্তুত।”

দস্যু আতঙ্ক ও ঋণের চাপে জর্জরিত উপকূলের মানুষগুলো এখন সুন্দরবনের দিকে তাকিয়ে আছেন জীবিকার আশায়।