আজ সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

সাতক্ষীরা সীমান্তের ওপারে আটক এএসপি আরিফুজ্জামান

  • রিপোর্টার
  • আপডেট সময়: ০৯:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তখন ওই কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি বিএসএফ।

তবে জানা গেছে, আটক ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা এপিবিএন-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত খান জানান, মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন।

পরে তাকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় অবস্থিত এপিবিএন-২-এ বদলি করা হয়। সেখানে তিনি গেল বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ১৪ অক্টোবর থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে হাজির না হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

বিএসএফ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘বিরল এবং গুরুতর অনুপ্রবেশের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিএসএফ ওই কর্মকর্তাকে আটক করার পর তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তদন্তকারীরা এই অস্বাভাবিক অনুপ্রবেশের পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। তারা জানার চেষ্টা করছেন, ওই কর্মকর্তা একা, নাকি কোনো বৃহত্তর চোরাচালান বা অন্য কোনো চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএনআইকে বলেন, ‘একজন কর্মরত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তার এমন অনুপ্রবেশের চেষ্টা সত্যিই বিরল। এটি সীমান্ত নজরদারি এবং দুই দেশের মধ্যকার গতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।’ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, তার প্রবেশের কারণ ব্যক্তিগত ছিল, নাকি কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে। কাকডাঙ্গা বিজিবির সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা সীমান্তের ওপারে আটক এএসপি আরিফুজ্জামান

আপডেট সময়: ০৯:২৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার কাকডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তখন ওই কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি বিএসএফ।

তবে জানা গেছে, আটক ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলা এপিবিএন-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত খান জানান, মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন।

পরে তাকে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় অবস্থিত এপিবিএন-২-এ বদলি করা হয়। সেখানে তিনি গেল বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ১৪ অক্টোবর থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে হাজির না হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

বিএসএফ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘বিরল এবং গুরুতর অনুপ্রবেশের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিএসএফ ওই কর্মকর্তাকে আটক করার পর তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তদন্তকারীরা এই অস্বাভাবিক অনুপ্রবেশের পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। তারা জানার চেষ্টা করছেন, ওই কর্মকর্তা একা, নাকি কোনো বৃহত্তর চোরাচালান বা অন্য কোনো চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএনআইকে বলেন, ‘একজন কর্মরত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তার এমন অনুপ্রবেশের চেষ্টা সত্যিই বিরল। এটি সীমান্ত নজরদারি এবং দুই দেশের মধ্যকার গতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।’ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, তার প্রবেশের কারণ ব্যক্তিগত ছিল, নাকি কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে। কাকডাঙ্গা বিজিবির সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।