আজ মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
Logo প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ Logo জনগণকে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে হবে: এমপি মারদিয়া মমতাজ Logo খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ Logo দেবহাটায় সরকারি জমিতে পাকাঁ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ Logo টেকসই উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo আশাশুনিতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত Logo আশাশুনি সদর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ Logo জাল নোট ঠেকাতে সাতক্ষীরার পশুর হাটে র‌্যাবের আধুনিক বুথ চালু Logo বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা ও স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বিষয়ক মতবিনিময় সভা Logo উপহারে হাসলো সাতক্ষীরার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা
বিজ্ঞাপন দিন
জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় পত্রিকাসহ অনলাইন পোর্টালে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন। মেসার্স রুকাইয়া এড ফার্ম 01711-211241, 01971 211241

নামসর্বস্ব নয়, কার্যকর হোক মশক নিয়ন্ত্রণ দপ্তর

  • জাতীয় ডেস্ক
  • আপডেট সময়: ০৪:৫১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে যখন ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তখন রাজধানীর হৃদয়ে থাকা ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর কার্যত নিস্তব্ধ। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়। অথচ মশা নিয়ন্ত্রণে মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সরকারি দপ্তর কেবল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত—এ যেন জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম উদাসীনতার উদাহরণ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দপ্তরটির জন্য ৯২ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তার পুরোটাই যাচ্ছে বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক খাতে। মশা মারার কীটনাশক, যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা—কোন কিছুর জন্যই নেই অর্থ বরাদ্দ। ফলে, তারা মশা মারার কাজেও নেই, গবেষণাতেও নেই—অথচ নাম ‘মশক নিবারণী’!

এই অব্যবস্থার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গাফিলতি। ২০১১ সালের পর আর কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি, ২০০৯ সালে সংশোধিত অর্গানোগ্রাম আজও গেজেটভুক্ত হয়নি, নেই কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো। এভাবে কাগজে-কলমে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কেবল সময় ও অর্থের অপচয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অথচ কীটতত্ত্ববিদদের মত অনুযায়ী, দেশের জন্য একটি ন্যাশনাল ভেক্টর কন্ট্রোল রিসার্চ ইনস্টিটিউট গঠনের সুযোগ ছিল এ দপ্তরকে ঘিরেই। ২০১৯ সালে এর রূপরেখাও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তৎপরতা থেমে যায় ‘মিটিং’ পর্যন্তই।

সরকার যদি সত্যিই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, তবে ঢাকার এ প্রতিষ্ঠানের মৌলিক রূপান্তন জরুরি। এটিকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। বরাদ্দ যেন ব্যয় হয় মাঠপর্যায়ের কাজ ও গবেষণার জন্য, শুধুই বেতন বা অফিস ভাড়া নয়। প্রয়োজন নতুন জনবল, প্রশিক্ষণ, ও গবেষণার সুযোগ।

জনস্বাস্থ্য কোনো লটারির ওপর নির্ভর করতে পারে না। বারবার আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা করানোর চেয়ে, পূর্বপ্রস্তুতিতে বিনিয়োগ করা অনেক বেশি কার্যকর ও অর্থনৈতিক। ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তরকে তাই কেবল নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বাস্তব কার্যক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সময় এখনই।

ট্যাগস:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখকের তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রান্তিক শিশুদের মাঝে জামায়াতের ঈদ পোশাক বিতরণ

নামসর্বস্ব নয়, কার্যকর হোক মশক নিয়ন্ত্রণ দপ্তর

আপডেট সময়: ০৪:৫১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

দেশজুড়ে যখন ডেঙ্গুজ্বর আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তখন রাজধানীর হৃদয়ে থাকা ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর কার্যত নিস্তব্ধ। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়। অথচ মশা নিয়ন্ত্রণে মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সরকারি দপ্তর কেবল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত—এ যেন জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম উদাসীনতার উদাহরণ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দপ্তরটির জন্য ৯২ কোটি ৬১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তার পুরোটাই যাচ্ছে বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক খাতে। মশা মারার কীটনাশক, যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা—কোন কিছুর জন্যই নেই অর্থ বরাদ্দ। ফলে, তারা মশা মারার কাজেও নেই, গবেষণাতেও নেই—অথচ নাম ‘মশক নিবারণী’!

এই অব্যবস্থার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গাফিলতি। ২০১১ সালের পর আর কোনো জনবল নিয়োগ হয়নি, ২০০৯ সালে সংশোধিত অর্গানোগ্রাম আজও গেজেটভুক্ত হয়নি, নেই কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো। এভাবে কাগজে-কলমে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর কেবল সময় ও অর্থের অপচয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অথচ কীটতত্ত্ববিদদের মত অনুযায়ী, দেশের জন্য একটি ন্যাশনাল ভেক্টর কন্ট্রোল রিসার্চ ইনস্টিটিউট গঠনের সুযোগ ছিল এ দপ্তরকে ঘিরেই। ২০১৯ সালে এর রূপরেখাও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তৎপরতা থেমে যায় ‘মিটিং’ পর্যন্তই।

সরকার যদি সত্যিই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, তবে ঢাকার এ প্রতিষ্ঠানের মৌলিক রূপান্তন জরুরি। এটিকে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। বরাদ্দ যেন ব্যয় হয় মাঠপর্যায়ের কাজ ও গবেষণার জন্য, শুধুই বেতন বা অফিস ভাড়া নয়। প্রয়োজন নতুন জনবল, প্রশিক্ষণ, ও গবেষণার সুযোগ।

জনস্বাস্থ্য কোনো লটারির ওপর নির্ভর করতে পারে না। বারবার আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা করানোর চেয়ে, পূর্বপ্রস্তুতিতে বিনিয়োগ করা অনেক বেশি কার্যকর ও অর্থনৈতিক। ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তরকে তাই কেবল নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বাস্তব কার্যক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সময় এখনই।